বিশ্বম্ভরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : জনবল সংকটে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল ও চিকিৎসকের তীব্র সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ৫টি ইউনিয়নের লাখো মানুষের চিকিৎসার একমাত্র এই প্রতিষ্ঠানটি গত ২০২৩ সালের ৬ জানুয়ারি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো মঞ্জুরিত পদের বিপরীতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও জনবল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে গরিব ও অসহায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার পর প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন না করায় বর্তমানে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। মঞ্জুরিত ৩৭টি পদের ১১২ জনের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৬৪ জন কর্মরত রয়েছেন। হাসপাতালটিতে গাইনোকোলজিস্ট না থাকায় সন্তানসম্ভবা নারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলা শহরে গিয়ে ডেলিভারি করাতে হচ্ছে।
শিউলি বেগম নামের এক ভুক্তভোগী জানান, হাসপাতালে নারী চিকিৎসক ও সিজারিয়ান অপারেশনের সুবিধা না থাকায় বাধ্য হয়ে তাঁকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে শহরে যেতে হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন অকেজো থাকায় রোগীদের সামনের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অতিরিক্ত মূল্যে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
জনবল সংকটের পাশাপাশি হাসপাতালটিতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কামাল হোসেন সরকারি এই হাসপাতালের সেবার মান বাড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার সুমন চন্দ্র বর্মন জানান, জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে এই অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি লাঘব হবে। বর্তমানে চিকিৎসক ও স্টাফ সংকটে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: