সিলেটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে
Led Bottom Ad

বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর

সিলেটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২৪/০৫/২০২৬ ২১:০২:১৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট মহানগরীতে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে বলে অকপটে স্বীকার করেছেন সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী এবং সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর; একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুরো সিলেট নগরজুড়ে আধুনিক ‘ফেস রিকগনিশন’ (মুখাবয়ব চেনার প্রযুক্তি) সিসি ক্যামেরা বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আজ রবিবার (২৪ vengeance/মে) বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ঈদ অনুদান বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে সাংবাদিকদের এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে—এ বিষয়ে আসলে দ্বিমত করার বা লুকিয়ে রাখার কিছু নেই; যে সমস্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আপনার-আমার সবার চোখের সামনে ঘটছে, তা তো আমাদের বাস্তবতার খাতিরে মানতেই হবে।” তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরায় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “সম্প্রতি সিলেটে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর অপরাধের বিষয়ে পুলিশ, র‍্যাব ও অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর সমন্বয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে যৌথভাবে যথাযথ ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে; এছাড়া পেশাদার অপরাধীদের নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে এবার পুরো সিলেট নগরে অত্যাধুনিক ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।” অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিতে দীর্ঘসূত্রিতা সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “অপরাধীদের ধরে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা বা কমিটমেন্টের বিন্দুমাত্র অভাব নেই; কিন্তু অপরাধীর চূড়ান্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হলে দেশের প্রচলিত বিচারিক প্রক্রিয়া ও আইনি ধাপগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করতে হয়, যা স্বভাবতই কিছুটা সময়সাপেক্ষ; তবে সিলেটে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া জঘন্যতম ধর্ষণসহ সকল অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধের সাথে জড়িতদের দেশের প্রচলিত বিচারিক প্রক্রিয়া মেনেই দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে এবং এসব সামাজিক অপরাধের ঘটনায় অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ছাড় দেওয়া হবে না।” এদিকে, আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ না করার বিষয়ে সিলেটের কওমি মাদ্রাসাগুলোর সাম্প্রতিক এক ঘোষণার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “কোরবানির পশুর চামড়া যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয় এবং এর যথাযথ সংরক্ষণ ও সুষম বাজারজাতকরণে যাতে কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি না হয়, সেজন্য কওমি মাদ্রাসার নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় জেলা প্রশাসন তথা সরকার সকলেই অত্যন্ত আন্তরিক ও তৎপর রয়েছে।”

এর আগে, দুপুরের দিকে সিলেট নগর ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার ১,১৫৮ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর হাতে প্রধানমন্ত্রীর পবিত্র ঈদ উপহারের প্রায় ৫৮ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমাদের এই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই মূলত সিটি করপোরেশনের মূল চালিকাশক্তি ও আসল প্রাণ; তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রতিদিনের অবদানেই এই ঐতিহ্যবাহী সিলেট শহর সবসময় বাসযোগ্য ও সুন্দর থাকে; তাই রাষ্ট্র ও সরকার তাঁদের কাজের সর্বোচ্চ সম্মান জানাতে প্রতি ঈদেই বিশেষ উপহারের ব্যবস্থা করে আসছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় সমাজের এই খেটে খাওয়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কল্যাণ ও ভালো-মন্দের কথা ভাবেন; গত ঈদেও তিনি আপনাদের জন্য উপহার পাঠিয়েছিলেন এবং এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি; সরকারের রাষ্ট্রীয় সামর্থ্য সীমিত থাকার পরও আপনাদের দাবি ও অধিকারকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।” অনুদানের পরিমাণের বিবরণ দিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে পাঠানো ৪১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে প্রথমে ৮৩১ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জন্য উৎসব উপহার নিশ্চিত করা হয়েছিল; পরবর্তীতে সিসিকের তালিকায় থাকা আরও ৩৩১ জন কর্মী যেন কোনোভাবেই এই বিশেষ সরকারি উপহার থেকে বাদ না পড়েন, সে জন্য সিসিকের প্রশাসককে অনুরোধ জানিয়ে সিসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে অতিরিক্ত ১৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা যোগ করে মোট ৫৮ লাখ টাকা সুষমভাবে বণ্টন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের আবাসন ও বাসস্থান সমস্যার মানবিক বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের আগে আমি নিজে আপনাদের কলোনি ও বাসস্থানের ভেতরের অবস্থা সরেজমিনে ঘুরে দেখেছি; একটি ছোট্ট ঘিঞ্জি কক্ষে ৮ থেকে ১০ জন মানুষ গাদাগাদি করে অত্যন্ত কষ্টকর অবস্থায় বসবাস করেন, যা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়; এই মানবিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তনে খুব দ্রুতই সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বহুতল ও আধুনিক নতুন আবাসন প্রকল্প নেওয়ার রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।” আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বিগত বছরগুলোর মতো এবারও কোরবানির পশুর বর্জ্য অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সিলেটকে আবার একটি আধুনিক ও ঝকঝকে নগরীতে পরিণত করতে হবে।”

একই সঙ্গে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি বলেন, চামড়া হচ্ছে আমাদের দেশের অন্যতম একটি প্রধান জাতীয় অর্থনীতি ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ; প্রতি বছর চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে; তাই কোরবানির পর অসাবধানতাবশত এই চামড়া যেন অবহেলায় নষ্ট না হয়, সে জন্য সব স্তরের জনগণকে সচেতন হতে হবে। তিনি সিলেটের সকল মাদ্রাসার সম্মানিত শিক্ষক, মুহতামিম এবং কোরবানিদাতাদের উদ্দেশে বিশেষ পরামর্শ দিয়ে বলেন, পশু জবাই করার ঠিক চার ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ লাগিয়ে বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রাথমিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে এবং সঠিকভাবে চামড়া সংরক্ষণ করা হলে সিলেট অঞ্চলের কোথাও চামড়া অবিক্রীত থাকবে না এবং সরকার সেখান থেকে চামড়া সরাসরি সংগ্রহ করা নিশ্চিত করবে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বর্তমান প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর বিশেষ সভাপতিত্বে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারসহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন জোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কাউন্সিলরবৃন্দ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad