শাহপরাণ (র.) মাজারে মোতাওয়াল্লীর পদত্যাগপত্রের নথি গায়েব, দান-সম্পদসহ আর্থিক অনিয়ম!

শাহপরাণ (র.) মাজারে মোতাওয়াল্লীর পদত্যাগপত্রের নথি গায়েব, দান-সম্পদসহ আর্থিক অনিয়ম!

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

৩০/১০/২০২৬ ১১:৪০:২৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট শাহপরাণ (র.) এর মাজার। প্রতিদিন ধর্মীয় বিশ্বাস, আধ্যাত্মিক ভালোবাসা ও মনের গভীর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো আশেকান ও সাধারণ মানুষ মাজার শরিফে ছুটে আসেন। কেউ মানত পূরণের আশায়, কেউ আত্মিক প্রশান্তির সন্ধানে, আবার কেউ প্রিয়জনের সুস্থতা ও মঙ্গল কামনায় দান করেন হাদিয়া-নজরানা। তাঁদের কাছে এই দান কেবল অর্থ নয়; এটি ভক্তি, বিশ্বাস ও পবিত্র অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু সেই দানের অর্থের ব্যবস্থাপনা নিয়ে যদি বছরের পর বছর প্রশ্ন ওঠে, দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে এবং প্রশাসনিক তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক—ভক্তদের এই পবিত্র আমানতের হিসাব কে রাখছে, আর জবাবদিহি নিশ্চিত করবে কে?

সৈয়দ মামুনুর রশীদকে ঘিরে মাজারের মোতাওয়াল্লীর পদ, ১৯৭৮ সালের কথিত পদত্যাগপত্র, আর্থিক অনিয়ম এবং প্রশাসনিক তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা প্রশ্ন সামনে এনেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদন, আদালতের নথি এবং ওয়াকফ প্রশাসনের রেকর্ডে এমন কিছু তথ্য রয়েছে, যেগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি।

মাজারের ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক অনিয়ম নিয়ে অতীতেও গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে বলে উল্লেখ করছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৯ জুলাই বৈশাখী টিভির অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান ‘ক্রাইম অ্যান্ড ফলোআপ’-এর ৪৫তম পর্বে ‘কার পকেটে মাজারের দানের টাকা?’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই প্রতিবেদনে বর্তমান মোতাওয়াল্লী সৈয়দ মামুনুর রশীদ ক্যামেরার সামনে তাঁর পদত্যাগ-সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ, প্রেক্ষাপট এবং পদত্যাগের আইনি তাৎপর্য নির্ধারণে মূল ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৫ অক্টোবর যমুনা টিভির অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান ‘ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ৩৬০ ডিগ্রি’র ২৩৭তম পর্বে ‘খাদেম মানে সেবক’ শিরোনামে মাজারের ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছিল বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ওই প্রতিবেদনেও মাজারের ব্যবস্থাপনা, দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে এসেছিল। তবে গণমাধ্যমে কোনো অভিযোগ প্রচারিত হওয়া এবং উপযুক্ত তদন্তের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোর মূল ভিডিও, বক্তব্য ও অনুসন্ধানের ফলাফল যাচাই করে অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

এই বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ১৯৭৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখের একটি কথিত পদত্যাগপত্র। অভিযোগকারীদের দাবি, হাইকোর্টের রিট পিটিশন নম্বর ৬৪৮৬/২০১৪-এর নথি এবং ওয়াকফ প্রশাসনের রেকর্ডে ওই তারিখে সৈয়দ মামুনুর রশীদের পদত্যাগের তথ্য রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেও গণমাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, যদি পদত্যাগপত্রটি প্রকৃত ও কার্যকর হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তী সময়ে কীভাবে তিনি সংশ্লিষ্ট পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং সেই দায়িত্ব পালনের আইনি ভিত্তি কী?

তবে পদত্যাগপত্রের অস্তিত্ব থাকলেই পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব পালনের বৈধতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। পদত্যাগটি গ্রহণ করা হয়েছিল কি না, সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান কী বলে, পরবর্তীকালে কোনো বৈধ নিয়োগ বা পুনর্বহাল হয়েছিল কি না এবং দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতার পক্ষে কী নথি রয়েছে, তা আদালতের আদেশ ও ওয়াকফ প্রশাসনের মূল রেকর্ড পর্যালোচনা করে নির্ধারণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন অভিযোগকারীরা।

মাজারের দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ, হাদিয়া-নজরানা এবং মানতের টাকার ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব, অর্থের ব্যবহার এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। এমনকি দানের অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নিরীক্ষিত হিসাব, ব্যাংক লেনদেনের নথি, সম্পদের মালিকানা-সংক্রান্ত দলিল কিংবা অর্থ স্থানান্তরের যাচাইকৃত প্রমাণ এই মুহূর্তে উপস্থাপিত হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, মাজারের দানের অর্থ ব্যবহার করে প্রতিবাদী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা এবং তাঁদের হয়রানি করার ঘটনা ঘটছে। তাঁদের বক্তব্য, মাজারের ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুললেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ‘মাজারবিদ্বেষী’ আখ্যা দেওয়া হয়। এর ফলে কেউ কেউ মামলা, হামলা ও কারাবাসের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি, আদালতের আদেশ, অভিযোগের প্রকৃতি এবং মামলাগুলোর অর্থায়ন সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো মামলা দায়ের হলেই তা মিথ্যা প্রমাণিত হয় না; একইভাবে ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়কে ব্যবহার করে কাউকে অন্যায়ভাবে হয়রানি করা হয়ে থাকলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে উদ্‌ঘাটন করা জরুরি।

মাজারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরেকটি অভিযোগ হলো, অনিয়ম বা প্রশাসনিক তদন্তের পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট মোতাওয়াল্লী বিদেশে অবস্থান করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্ত চলাকালে ওয়াকফ প্রশাসনের অনুমতি বা ছুটি ছাড়াই দেশের বাইরে থাকার বিষয়টি সরকারি নথিতেও উল্লেখ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নথি, দায়িত্ব পালনের শর্তাবলি, বিদেশে অবস্থানের অনুমোদন এবং প্রযোজ্য বিধিবিধান পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। কেউ বিদেশে অবস্থান করলেই তা বেআইনি প্রমাণিত হয় না। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনুমতির বাধ্যবাধকতা থাকলে এবং তা লঙ্ঘিত হয়ে থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

মাজারের অভিযোগগুলোর পাশাপাশি প্রশাসনিক তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সিলেটের পরিচালক ভুক্তভোগীদের নিয়ে একটি গণশুনানি করেছিলেন। কিন্তু সেই গণশুনানির ভিত্তিতে প্রস্তুত করা তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে তাঁরা দাবি করছেন। তাঁদের প্রশ্ন, গণশুনানির কার্যবিবরণী কোথায়, তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়ে থাকলে সেটি কোন দপ্তরে রয়েছে এবং প্রতিবেদন জমা না পড়ে থাকলে তার কারণ কী?

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ওয়াকফ প্রশাসনে মাজার-সংক্রান্ত নথিপত্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন টেবিলে ঘুরছে, কিন্তু কার্যকর সিদ্ধান্তের অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। তাঁরা প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ও প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। তবে কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানো কিংবা তদন্ত আটকে রাখার অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে হলে সংশ্লিষ্ট নথি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা এবং অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন। জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং ওয়াকফ প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য প্রত্যাশিত, যাতে তদন্তের প্রকৃত অবস্থা ও বিলম্বের কারণ জনসমক্ষে পরিষ্কার হয়।

এই পরিস্থিতিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়, সিলেট জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং ওয়াকফ প্রশাসনের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর প্রত্যাশিত। ১৯৭৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখের কথিত পদত্যাগপত্রের বর্তমান আইনি অবস্থান কী? সংশ্লিষ্ট পদে দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতার পক্ষে কী নথি রয়েছে? মাজারের আয়-ব্যয়ের সর্বশেষ নিরীক্ষা কবে হয়েছে এবং দানবাক্সের অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে? গণশুনানির তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে তা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে কি না? বিদেশে অবস্থান এবং প্রতিবাদকারীদের হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক অনুসন্ধান হয়েছে কি? এসব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর লিখিত বক্তব্য ও নথির ভিত্তিতে প্রকাশ করা হলে জনমনে তৈরি হওয়া সংশয় অনেকটাই দূর হতে পারে।

মাজারের দান-সম্পদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কের স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ফরেনসিক অডিট। মাজারের আয়-ব্যয়, ব্যাংক হিসাব, দানবাক্সে সংগৃহীত অর্থ এবং সম্পদ অর্জন-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ নিরীক্ষকের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হলে অর্থের প্রকৃত ব্যবহার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি ১৯৭৮ সালের কথিত পদত্যাগপত্র, সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি, ওয়াকফ প্রশাসনের রেকর্ড এবং পরবর্তী নিয়োগ বা পুনর্বহালের দলিল পর্যালোচনা করে মোতাওয়াল্লীর পদে দায়িত্ব পালনের আইনি ভিত্তি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। আর্থিক অনিয়ম, অর্থ পাচার কিংবা বিধিভঙ্গের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

একই সঙ্গে মাজার পরিচালনায় বৈধ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো নিশ্চিত করাও জরুরি। প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধান অনুসারে পরিচালনা কমিটি গঠন, নিয়মিত আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ, দানের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা গেলে মাজারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নিরসনে সহায়তা মিলতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শোনা এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করাও গুরুত্বপূর্ণ।

মাজারের দান-সম্পদ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; এর ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিবিধান ও অর্পিত দায়িত্বের অধীন। যাঁরা ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভালোবাসা থেকে অর্থ দান করেন, তাঁদের সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে জানার যৌক্তিক অধিকার রয়েছে। সৈয়দ মামুনুর রশীদকে ঘিরে উত্থাপিত পদত্যাগ, আর্থিক অনিয়ম, বিদেশে অবস্থান এবং প্রশাসনিক তদন্তের অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে এখন প্রয়োজন নথিভিত্তিক অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য। অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগের কোনো অংশ অসত্য বা অসম্পূর্ণ হলে সেটিও প্রমাণের ভিত্তিতে পরিষ্কার করতে হবে।

সবশেষে প্রশ্ন থেকেই যায়—ভক্তদের দানের অর্থের স্বচ্ছ হিসাব নিশ্চিত হবে কবে, ১৯৭৮ সালের কথিত পদত্যাগপত্রের আইনি অবস্থান পরিষ্কার হবে কখন, আর গণশুনানির তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য মিলবে কবে? ধর্ম মন্ত্রণালয়, সিলেট জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ওয়াকফ প্রশাসনের কাছে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রত্যাশা একটাই—অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, আর্থিক স্বচ্ছতা, আইনি বৈধতা এবং কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক। কারণ, ভক্তদের বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে শুধু আশ্বাস নয়, প্রয়োজন নথিভিত্তিক সত্য উদ্‌ঘাটন ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ।

তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad