জৈন্তাপুরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ট্রাফিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম সভা

জৈন্তাপুরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ট্রাফিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি, জৈন্তাপুর

২৭/১০/২০২৬ ১৫:৪০:৫৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিলেট জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে জৈন্তাপুরে ট্রাফিক সচেতনতামূলক শিক্ষামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জৈন্তাপুরের বিয়াম ডাক্তার কুদরত উল্লাহ স্কুল মিলনায়তনে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট থানা ট্রাফিকের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর দেলোয়ার হোসেন খাঁন। সভাপতিত্ব করেন বিয়াম ডাক্তার কুদরত উল্লাহ স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু সুফিয়ান বিলাল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জৈন্তাপুর থানা ট্রাফিকের ট্রাফিক সার্জেন্ট দিনার আলি মুন্সি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সারওয়ার বিলাল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর দেলোয়ার হোসেন খাঁন বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিকল্প নেই। সড়ক নিরাপত্তা শুধু ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। নিজের জীবন রক্ষার পাশাপাশি অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এবং তা মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, রাস্তা চলাচলের সময় ফুটপাত ব্যবহার করতে হবে। ফুটপাত না থাকলে রাস্তার ডান পাশের প্রান্ত ঘেঁষে হাঁটতে হবে। হাঁটার সময় মোবাইল ফোন বা হেডফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে ফুটওভার ব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করতে হবে। এসব ব্যবস্থা না থাকলে ডানে-বামে ভালোভাবে দেখে সতর্কতার সঙ্গে রাস্তা পার হতে হবে। প্রয়োজনে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তা নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই তাড়াহুড়ো করে রাস্তা পার হওয়া কিংবা হঠাৎ দৌড় দেওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, চলন্ত যানবাহনে ওঠা বা নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই যানবাহন সম্পূর্ণ থামার পর নিরাপদে ওঠানামা করতে হবে। মোটরযান চালানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত বয়স ও আইনগত শর্ত মেনে চলতে হবে। ট্রাফিক আইন জানা ও মেনে চলার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক নিয়মাবলি সম্পর্কে বিভিন্ন অনুপ্রেরণামূলক ও শিক্ষামূলক বার্তা দেওয়া হয়। ‘ট্রাফিক আইন মানবো, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়বো’, ‘নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ জীবন’ এবং ‘ট্রাফিক নিয়ম মানি, জীবন বাঁচাই’—এমন স্লোগানের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাহারুল ইসলাম, তোফাজ্জল হোসেন, সুমন দেব, নাঈম আহমেদ রাহিম ও শাকিল আহমেদ, অভিভাবক ইলিয়াস সারকিস হেলালসহ অন্যান্য শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল সড়ক ব্যবহারকারী গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, দুর্ঘটনা রোধ এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


সাইফুল ইসলাম বাবু / পূজা বাড়াইক-প্রসি-26

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad