পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে বালাগঞ্জে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা নি/হ/ত
সিলেটের বালাগঞ্জে জমি বিক্রির পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে আবুল মিয়া (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর ভাই আব্দুল কাদির গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁর মাথা ও হাতে ধারালো দা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ভাতিজা টিটু মিয়া পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের মুসলিমাবাদ ডেকাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত আবুল মিয়া ও তার অভিযুক্ত ভাতিজা টিটু মিয়া একই বাড়িতে বসবাস করতেন। টিটুর পিতার নাম আব্দুল হক ফরিদ মিয়া। আবুল মিয়া ও তার ভাই আব্দুল কাদিরের জমি বিক্রির ১২ লাখ টাকা পাওনা ছিল তাদের ভাতিজা টিটু মিয়ার কাছে। একাধিকবার টাকা চাওয়া হলেও গুরুত্ব দেননি টিটু। পাওনা পরিশোধ না করেই ওই জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ করছিলেন তিনি।
রবিবার রাতে টাকা চাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে টিটু উত্তেজিত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে আবুল মিয়ার বুকে আঘাত করেন। এসময় টিটু দা দিয়ে তার আরেক চাচা আব্দুল কাদিরের মাথা ও হাতে কোপ দেন। আবুল মিয়াকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আব্দুল কাদিরকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আবুল মিয়ার ৪ ছেলের মধ্যে বড় ছেলে যুক্তরাজ্যে থাকেন।
আহত আব্দুল কাদির বলেন, ১৫ বছর আগে বসতবাড়ির জায়গা বিক্রি করলেও টাকা দেয়নি টিটু। সে সন্ত্রাসীদের মত চলাফেরা করে। টাকা চাইলে আমাদেরকে মেরে ফেলার হুমকি দিতো। সে আমার ভাইকে হত্যা করেছে, আমাকেও হত্যা করতে চেয়েছিল। আমি তার দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। ঘটনার সময় গ্রামের কনর মিয়ার ছেলে হাসান তার সাথে ছিল। হাসান টিটুকে বাধা না দিয়ে উস্কানি দিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তার অভিযোগ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল লতিফ তরফদার প্রথম সিলেটকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আজ ময়না তদন্তের জন্য লাশ সিলেট ওসমানী হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত টিটু পালিয়ে গেছে। এঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহত আবুল মিয়া ও অভিযুক্ত টিটু মিয়া। বা দিক থেকেস্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবুল মিয়া ও আব্দুল কাদিরসহ তারা ৬ ভাই দুই বাড়িতে বসবাস করেন। প্রায় ১৬ বছর আগে টিটুর বসতবাড়ি তার চাচা আবুল মিয়া ও আব্দুল কাদিরের কাছে ১২ লক্ষ টাকায় বিক্রি করেন। চাচারা ওই সময়ে সরল বিশ্বাষে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে দেন। কিন্তু টিটু জায়গা রেজিস্ট্রি করে দেননি। টিটু ওই টাকা দিয়ে তার মামার বাড়ি ফেঞ্জুগঞ্জ উপজেলার পালবাড়ি এলাকার কচুয়াবর গ্রামে বাড়ি কিনে সেখানে চলে যান। ভাই মিটুকে গ্রীসে পাঠান। এক বছর পর টিটু সেই বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে ফের বাড়িতে চলে আসেন। চাচা আবুল মিয়া ও আব্দুল কাদিরের কাছে বিক্রিত জায়গা সমমূল্যে ফেরৎ নেওয়ার দাবি করেন। চাচারা রাজি হয়ে যান। টিটু পরিবার নিয়ে ওই জায়গায় বসবাস শুরু করলেও চাচাদের টাকা ফেরৎ দিতে টালবাহানা করেন।
আব্দুল কাদির অভিযোগ করে বলেন, টিটু ও তার ভাই মিটু অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির এবং পরধন লোভী। তারা মানুষের জমি ও টাকা আত্মসাতের ধান্ধায় লিপ্ত। এক মহিলার টাকা আত্মসাৎ করায় মিটুর বিরুদ্ধে ২২ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা রয়েছে। সে আওয়ামী লীগের প্রয়াত এমপি মাহমুদ উস সামাদের আস্থাভাজন হওয়ায় বিগতদিনে মানুষের টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণা করতো। টিটুর বিবাহিত দুই বোন বেড়াতে আসলে তার মা ও বোনদের সাথে আমি ও আমার ভাই পাওনা টাকা নিয়ে কথা বলি। ওই সময়ে টিটু গ্রামের বাজারে জুয়া খেলছিল। তার ঘর থেকে এ কথা ফোনে টিটুকে জানানো হয়। টিটু তার সহযোগী হাসানকে সাথে নিয়ে বাজার থেকে ছুরি নিয়ে এসেই আমার ভাইকে হত্যা করে। হত্যার উদ্দেশ্যে আমাকেও দা দিয়ে কুপিয়েছে।
নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: