মাধবপুরে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে চাচা-ভাতিজা, শ্যালক-দুলাভাইকে আসামি করে মামলা

পুলিশের তদন্ত নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

মাধবপুরে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে চাচা-ভাতিজা, শ্যালক-দুলাভাইকে আসামি করে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি, মাধবপুর

২৬/১০/২০২৬ ২০:২৬:৫০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের মাধবপুরে একটি ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ এনে চাচা ও ভাতিজাসহ চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মামলার তদন্ত নিয়ে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অন্যদিকে, মামলাটিকে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে অব্যাহতি এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের বানেশ্বর গ্রামের ইউপি সদস্য সানু মিয়ার মেয়ের জামাতা কাউসারের সঙ্গে একই গ্রামের সেলিম মিয়ার একটি যৌথ ব্যবসা ছিল। পরবর্তীতে তাদের ব্যবসা আলাদা হয়ে গেলে সেলিমের কাছে কাউসারের ১ লক্ষ টাকা পাওনা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

গত ৫ জুলাই (সংবাদের তথ্যানুযায়ী সাল ২০০৬ উল্লেখ থাকলেও তা বর্তমান সময় বা সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা হতে পারে, যা প্রয়োজনমতো সংশোধনযোগ্য) বিকেলে বানেশ্বর বাজারে টাকা-পয়সা নিয়ে সানু মিয়া ও সেলিম মিয়ার মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সানু মিয়া তার মেয়েকে বাদী করে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সেলিম মিয়াসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মাধবপুর থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

আদালতের আদেশে মাধবপুর থানার তৎকালীন এসআই সুমন চন্দ সরকারকে (বিপি নম্বর-৮৬১৪۱৭১৯৬৬) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসআই সুমন চন্দ সরকার কোনো প্রকার সঠিক তদন্ত ছাড়াই সেলিম মিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঞ্চল্যকর ওই ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা সম্পর্কে পাড়া বা পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোকজন কিছুই জানেন না। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, মামলায় অভিযুক্ত বিল্লাল মিয়া ও তার ভাতিজা হৃদয় মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। একই মামলায় চাচা ও ভাতিজা মিলে কীভাবে একটি মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করতে পারেন—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাছাড়া সেলিম মিয়া ও তার শ্যালককেও একই মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলায় ঘটনার সময় হিসেবে রাত ৯টা দেখানো হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, ওই সময় এমন কোনো ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তদের হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা যেত, কিন্তু তা করা হয়নি।

পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম জানান, ধর্ষণের চেষ্টার কোনো ঘটনাই এলাকায় ঘটেনি এবং তিনি এ বিষয়ে কিছুই শোনেননি। এমনকি পুলিশ যে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেছে, সে বিষয়েও তিনি অবগত নন।

এদিকে, মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক এই মামলা থেকে মুক্তি পেতে এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে এসআই সুমন চন্দ সরকারের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সেলিম মিয়া।

রাজীব দেব রায় রাজু/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad