৩ দশকের অপেক্ষার অবসান!
কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথম সিজার, আলো ছড়াচ্ছে প্রান্তিক জনপদে
দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের অপেক্ষা ফুরোলো সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম কোনো প্রসূতির সফল সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সপ্তাহের নিয়মিত দুই দিন এই সেবা চালু রাখার ঘোষণা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) ডলি আক্তার (২৮) নামের এক গর্ভবতী নারীর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক কার্যক্রমের শুভসূচনা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সার্জন ডা. মো. আরিফুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এবং সহকারী সার্জন ডা. একরামুল হক, ডা. সাব্বির মুনতাকা পরাগ ও ডা. ফাতেহা রেজওয়ানার সার্বিক সহায়তায় এই অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সিজারে ডলি আক্তার এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা।
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা না থাকায় এলাকার দরিদ্র ও প্রান্তিক নারীদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে জেলা শহরে গিয়ে সন্তান প্রসবের অপারেশন করাতে হতো। এতে চরম দুর্ভোগ ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হতেন সাধারণ মানুষ। নিজ উপজেলাতেই এই জীবনরক্ষাকারী সেবা চালু হওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস ও আনন্দের জোয়ার বইছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুর রহমান নয়ন বলেন, "১৯৯৭ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠিত হলেও এখানে কখনো সিজার করার সুযোগ ছিল না। আজ আমরা প্রথম সিজার সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরে আনন্দিত। এখন থেকে নিয়মিত সপ্তাহে দুই দিন এই অপারেশন চালু থাকবে। শুরুর দিকে প্রসূতিদের ওষুধসহ সবকিছু সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেবাটি অব্যাহত রাখা হবে এবং খরচ হলেও তা ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে সীমিত রাখা হবে।"
সোহেল রানা/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: