দুর্গাপূজা ঘিরে জমজমাট সিলেটের বাজার, কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা
শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে সিলেট অঞ্চলের বাজারগুলোতে বাড়তে শুরু করেছে কেনাকাটার ব্যস্ততা। নতুন পোশাক, জুতা ও প্রসাধনসামগ্রী কিনতে বিপণিবিতান ও বাজারে ভিড় করছেন ক্রেতারা। উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সিলেট নগরের প্রতিটি বিপনীবিতান ও শপিংমলগুলোতে। বাজারেও।
আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর জিন্দাবাজারস্থ আল হামড়া শপিং সিটি, ব্লু-ওয়াটর, সিলেট প্লাজাসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়।
পূজা উপলক্ষে দোকানগুলোতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা রঙ ও নকশার শাড়ি, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, জামদানি, কাতান ও তাঁতের পোশাক। ছেলেদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, টি-শার্ট, জিনস ও ধুতি। পাশাপাশি জুতা, শিশুদের পোশাক ও প্রসাধনসামগ্রীর দোকানেও কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ পছন্দের পোশাক খুঁজছেন নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য।
আল হামড়ার সোমা বস্ত্র বিতান এর মালিক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘এবার বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। গতবারের তুলনায় ক্রেতাও বেশি পাচ্ছি। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ কেনাকাটা করতে আসছেন। পূজার আগে শেষ সময়ে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’
জল্লারপাড় রোডের মিলিনিয়াম মার্কেটের মামনি শাড়ি ঘরে কেনাকাটা করতে আসা অনামিকা, সুজন, অনিক ও প্রীতি জানান, পূজার সাজে লাল-সাদার ঐতিহ্যবাহী রং রাখতে চান তাঁরা। পাশাপাশি পোশাকে আধুনিক নকশার ছোঁয়াও পছন্দ তাঁদের। সে অনুযায়ী তাঁরা লাল-সাদা জামদানি শাড়ি কিনেছেন।
সিলেট প্লাজা মার্কেটের নীচতলায় বিসমিল্লাহ ক্লথ স্টোরে কেনাকাটা করতে আসা অবিনাশ দেব জানান, স্ত্রীর জন্য লাল-সাদা শাড়ি এবং নিজের জন্য গাঢ় নীল রঙের ফতুয়া ও জিনস প্যান্ট কিনেছেন তিনি।
দোকানি ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের পূজার বাজারে নারীদের শাড়ি, থ্রি-পিস ও টপসের চাহিদা বেশি। কাতান, কাঞ্চিভরম, মিঠাই, ভোয়েল এবং লাল পাড়ের সাদা শাড়ির প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ রয়েছে। পুরুষদের পোশাকের মধ্যে পাঞ্জাবি, ফতুয়া, কাতুয়া ও জিনস প্যান্ট বেশি বিক্রি হচ্ছে। অনেকে পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে ধুতিও কিনছেন।
নগরীর হাসান মার্কেটের প্রীতি ক্লথ স্টোরের মালিক প্রণীত রঞ্জন বলেন, পূজা উপলক্ষে প্রতিবারের মতো এবারও শাড়ির চাহিদা বেশি। পাশাপাশি তরুণীরা থ্রি-পিস, টপস ও সালোয়ার-কামিজ কিনছেন। পুরুষ ক্রেতাদের মধ্যে পাঞ্জাবি ও ফতুয়ার চাহিদা রয়েছে। সব মিলিয়ে বিক্রি ভালো হচ্ছে।
আপন কসমেটিকস অ্যান্ড গিফট সেন্টারের মালিক জানান, সারা বছর প্রসাধনসামগ্রী বিক্রি হলেও পূজা উপলক্ষে চাহিদা বাড়ে। এবারও বিক্রি ভালো হচ্ছে।
ফেডারেল মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ীরা জানান, তাঁদের দোকানে নারী ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। বিভিন্ন ধরনের পোশাক থাকায় ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী কেনাকাটা করতে পারছেন। তাঁদের আশা, পূজার আগে বিক্রি আরও বাড়বে।
জৈন্তাপুর থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা দিলীপ পাল বলেন, পোশাকের দাম কিছুটা বেশি হলেও উৎসব উপলক্ষে কেনাকাটা করতে হচ্ছে। আগের দিন মা-বাবার জন্য কেনাকাটা করেছেন। এবার স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে এসেছেন। স্ত্রীর জন্য একটি কাতান শাড়ি কিনেছেন। ছেলের জন্য প্যান্ট-শার্ট এবং নিজের জন্য পাঞ্জাবি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
বিভিন্ন বিপণিবিতান ও মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। সবাই বলছে, গতবারের তুলনায় এবার বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। বাজারে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা ও ব্যবসা করতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নজরদারি করছে।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: