চার দাবি বাদী পক্ষের
হযরত শাহ পরান (র:) মাজারে মোতাওয়াল্লীর দুর্নীতি: ওয়াকফ প্রশাসনের তদন্তের নির্দেশ
সিলেট:ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহ পরান (র:) মাজার ওয়াকফ এস্টেটের (ইসি নং-১৩৬৫১) অর্থ ও সম্পত্তি আত্মসাৎ, দুর্নীতি, সরকারি নথিপত্র বিকৃতি এবং কোটি কোটি টাকার অনিয়মের গুরুতর অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিতর্কিত মোতাওয়াল্লী সৈয়দ মামুনুর রশীদ ও তাঁর চক্রের বিরুদ্ধে আনীত এসব দুর্নীতির তদন্ত নিরপেক্ষ ও ত্বরান্বিত করতে এবং ওয়াকফ প্রশাসনের সর্বশেষ কঠোর নির্দেশনা মূল নথিতে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় কার্যালয়ে পরিপূরক আবেদন দাখিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষুব্ধ বাদীপক্ষ।
অভিযোগে প্রকাশ, বিতর্কিত মোতাওয়াল্লী সৈয়দ মামুনুর রশীদ ও তাঁর সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে মাজারের কোটি কোটি টাকার অনুদান, দানবাক্সের অর্থ, ইজারা ও বিপুল পরিমাণ জমি আত্মসাৎ করে আসছেন। শুধু তা-ই নয়, সরকারি নথিপত্র বিকৃত করে একটি অসাধু সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. তারিখে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সিলেট কার্যালয়ে আয়োজিত গণশুনানিতে বাদীপক্ষ স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে এই চক্রের বিরুদ্ধে ৩২৬ পৃষ্ঠার এক অকাট্য তথ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসন, ঢাকা থেকে (স্মারক নং-১৬.০২.০০০.০৪৩.৩১.০০০.২৬/২৩০(৪), তারিখ: ২৭/০৯/২০২৬) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত নির্দেশনামূলক চিঠি জারি করা হয়। উক্ত আদেশে ওয়াকফ প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—অভিযোগকারীদের পূর্বের ২৬২ ফর্দের আবেদন ও প্রস্তাবিত কমিটির তালিকাটি তদন্ত প্রতিবেদনের সাথে "একত্রে বিবেচনা করে এস্টেটটি সরজমিনে তদন্তপূর্বক স্পষ্ট মতামতসহ একটি পূর্ণাঙ্গ ও তথ্যপূর্ণ সমন্বিত তদন্ত প্রতিবেদন" জেলা প্রশাসক, সিলেটের কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে।
অভিযোগকারীরা জানান, ওয়াকফ প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত একটি অত্যন্ত শক্তিশালী আইনি দলিল। কিন্তু অভিযুক্ত মোতাওয়াল্লী যেন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মাজারের হিসাবের খাতা ও মূল রেজিস্টার বিনষ্ট বা বিকৃত করতে না পারেন, সে জন্য অনতিবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
আজ রবিবার ১১ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. তারিখে পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে তারা ৪টি মূল দাবি জানান। দাবিগুলো হচ্ছে ১. মাজারের দীর্ঘদিনের অপশাসন ও অচ্ছ শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে জেলা প্রশাসক, সিলেট-কে সভাপতি ও পুলিশ কমিশনার, এসএমপি-কে সহ-সভাপতি করে দাখিলকৃত ২৫ সদস্যের সর্বজনগ্রাহ্য পরিচালনা কমিটি অবিলম্বে অনুমোদন দেওয়া। ২.ভবিষ্যতে মাজারের সব দানবাক্স খোলা, টাকা গণনা ও ব্যাংকে জমা দেওয়ার সময় ওয়াকফ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের মনোনীত সরকারি প্রতিনিধির উপস্থিতি এবং সচিত্র রেকর্ড সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা। ৩. ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে মোতাওয়াল্লীর প্রদর্শিত মাত্র ৫৪ লক্ষ টাকার কাল্পনিক ও নামমাত্র আয়-ব্যয়ের হিসাব নাকচ করে প্রকৃত আয়-ব্যয়ের ‘ফরেনসিক অডিট’ এবং মাজারের দোকান ও ১০০ একরের বেশি কৃষিজমির সঠিক সীমানা ও ইজারা মূল্যের সরজমিন তদন্ত করা। ৪.ওয়াকফ প্রশাসনের ২৭/০৯/২০২৬ খ্রি. তারিখের চূড়ান্ত নির্দেশনামূলক চিঠিটি চলমান মূল ৩২৬ পৃষ্ঠার নথিতে "সম্পূরক আইনি নথি" হিসেবে সংযুক্ত করে তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করা।
পবিত্র ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষা ও মাজারের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে স্থানীয় বাসিন্দা ও মূল বাদী মোঃ আলমগীর, মোঃ আবদুল হক জাবেদ, মোঃ জসিম মিয়া, মোঃ আলী আহমদ, হেলাল আহমদ ও মোঃ আমিরুল ইসলামসহ সর্বস্তরের তাওহীদি জনতা একাট্টা হয়েছেন। তাদের দাবি, কোনো ধরনের আতাতে আপস না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ মোতাওয়াল্লী ও তার সহযোগীদের মাজারের কর্তৃত্ব থেকে চিরতরে মুক্ত করতে হবে, অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন তারা।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত আইনানুগ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় পুরো সিলেটবাসী।
নীরব চাকলাদার/ তাহির আহমদ/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: