দ্রুত তদন্তের নির্দেশ
শাহপরাণ মাজারে আয়ের ভুয়া হিসাব,পদত্যাগপত্র জালিয়াতি
সিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহপরাণ (রহঃ) মাজার ওয়াকফ এস্টেটের (ইসি নং-১৩৬৫১) কোটি কোটি টাকার তহবিল আত্মসাৎ, সম্পত্তি দখল, মূল্যবান গাছ পাচার ও জালিয়াতি করে মোতওয়াল্লী পদে বহাল থাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অসাধু মোতওয়াল্লী সৈয়দ মামুনুর রশীদ ও শাখা কেরানি জসিম উদ্দিনসহ একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে এই জালিয়াতির অভিযোগ এনে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মূল অভিযোগকারীগণ।
প্রাপ্ত সরকারি নথিপত্র ও দাপ্তরিক চিঠিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসন (স্মারক নং- ১৬.০২.০০০০.০৪৩.৩১.০০০.২৬/২৮০(৫), তারিখ: ২৭/০৯/২০২৬ খ্রি.) সিলেট জেলা প্রশাসককে মাজারের সামগ্রিক প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে একটি নিরপেক্ষ ‘সমন্বিত সরেজমিন তদন্ত’ সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ওয়াকফ দপ্তরে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মাজারের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে মাত্র ৫৪,৫৫,৪৬৫ (চুয়ান্ন লক্ষ পঞ্চান্ন হাজার চারশত পঁয়ষট্টি) টাকা—যা মাজারের বিপুল পরিমাণ দান, মানত, নজরানা ও ইজারা আয়ের তুলনায় চরম গরমিলযুক্ত ও কাল্পনিক। মাজারের প্রকৃত আয় গোপন করে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন রীট পিটিশন নং-৬৪৮৬/২০১৪-এর নথিপত্র ও প্রশাসনিক রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বর্তমান মোতওয়াল্লী ১৯৭৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পদত্যাগপত্র দাখিল করার পরও তা গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে পদে বহাল রয়েছেন। এছাড়া মাজারের মূল্যবান সেগুন গাছ কেটে পাচার এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়াই জমি লিজ ও অবৈধ দখলের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে।
মাজারের এই আর্থিক লুণ্ঠন ও জালিয়াতি নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে একাধিক অনুসন্ধান সম্প্রচারিত হয়েছে। যমুনা টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান 'ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ৩৬০ ডিগ্রি' (পর্ব-২৩৭: "খাদেম মানে সেবক") এবং বৈশাখী টেলিভিশনের 'ক্রাইম অ্যান্ড ফলোআপ' (পর্ব-৪৫: "কার পকেটে মাজারের দানের টাকা?") অনুষ্ঠানে দান বাক্স ও নজরানার টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
এদিকে মাজারের সম্পত্তি ও পবিত্রতা রক্ষা এবং সরকারি তহবিল পুনর্দ্ধারে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ওয়াকফ উন্নয়ন কমিটির কাছে ৫টি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ১. কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলোন (সিলেট দরগাহ গেইট শাখা)-এর হিসাবসহ মাজারের সমস্ত আয়ের নথিপত্রের বিশেষ ফরেনসিক অডিট সম্পন্ন করা। ২. দানবাক্স খোলা ও অর্থ গণনার স্বচ্ছতা যাচাইয়ে সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ ও রেজিস্টার জব্দ করা। ৩. মহামান্য হাইকোর্ট ও ওয়াকফ প্রশাসনের মূল নথিপত্র যাচাই করে বর্তমান মোতওয়াল্লীর পদের আইনি ভিত্তি নির্ধারণ। ৪. যমুনা ও বৈশাখী টিভিতে প্রচারিত অনুসন্ধানী ভিডিও ফুটেজ প্রমান হিসেবে গ্রহণ ও পর্যালোচনা। ৫. দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযোগকারী ও স্থানীয় সচেতন মহলকে সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিক গণশুনানির তারিখ নির্ধারণ এবং জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ২৫ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন পরিচালনা কমিটি গঠন করা।
সিলেটের জেলা প্রশাসন ও ওয়াকফ প্রশাসন দ্রুত এই সমন্বিত তদন্ত শেষ করে অসাধু চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সিলেটের ধর্মপ্রাণ সচেতন নাগরিক সমাজ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শাখা কেরানি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোন নির্দেশনা আসে নি। তাছাড়া আমি এর অথরিটি নই। তিনি অথরিটি হাফিজ উদ্দিন আহমদের সাথে কথা বলার অনুরোধ করেন। তবে হাফিজ উদ্দিনের মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
তাহির আহমদ/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: