সুনামগঞ্জে যুবদল নেতার সুদের জালে জিম্মি গৃহবধূ, ধর্ষণ চেষ্টা ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ

সুনামগঞ্জে যুবদল নেতার সুদের জালে জিম্মি গৃহবধূ, ধর্ষণ চেষ্টা ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, দোয়ারাবাজার

০৭/১০/২০২৬ ১৯:১৮:১৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ঋণের মূল টাকা ও সুদ পরিশোধের পরও ক্ষান্ত হয়নি সুদের কারবারি। চেক ও স্ট্যাম্প আটকে রেখে অতিরিক্ত টাকার দাবি, লাগাতার কুপ্রস্তাব, ব্ল্যাকমেইল—আর সবশেষে এক নারী চিকিৎসকের শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের অপচেষ্টা! ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এমন হীন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের দোহালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি আমির আলীর বিরুদ্ধে।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে গত ২ অক্টোবর দোয়ারাবাজারের বঙ্গবন্ধু বাজারে। ভুক্তভোগী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক সুমী রানী নাথ ন্যায়বিচারের দাবিতে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই-তিন বছর আগে আমির আলীর কাছ থেকে সাপ্তাহিক চড়া সুদে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন সুমী রানী। সে সময় ফাঁকা স্ট্যাম্প ও ব্যাংকের চেকে স্বাক্ষর নিয়ে তা নিজের জিম্মায় রাখেন অভিযুক্ত আমির। চড়া সুদসহ ঋণের টাকা মেটাতে সুমী রানীকে চরম মূল্য দিতে হয়—চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্বামীর সম্পত্তি বিক্রি ও ব্যাংক থেকে লাখ টাকা লোন নিয়ে আমির আলীর পাওনা পুরোপুরি পরিশোধ করেন তিনি।

কিন্তু টাকা পেয়েও বদলায়নি সুদের কারবারির দানবীয় রূপ। জামানত হিসেবে রাখা চেকবই ফেরত চাইলে শুরু হয় মূল নির্যাতন। চেকের অজুহাতে সুমী রানীকে নিয়মিত হুমকি ও অনৈতিক কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন যুবদলের এই নেতা।

ঘটনার দিন ২ অক্টোবর দুপুরে নিজের ফার্মেসির পেছনের কক্ষে অসুস্থ শরীর নিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন সুমী রানী। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সুযোগে লম্পট আমির আলী গোপনে পেছনের দরজা দিয়ে কক্ষে ঢুকে পড়ে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি সুমী রানীর মুখ চেপে ধরেন এবং পরনের কাপড় টেনে খুলে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ভুক্তভোগীর প্রাণপণ চিৎকার ও আকুতিতে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় অভিযুক্ত।

এ ঘটনার পরপরই বাজার ব্যবসায়ীদের জানানো হলে গত ৫ অক্টোবর এক সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে ক্ষমতার দাপট বজায় রাখতে আমির আলী সালিশে উপস্থিত হওয়া তো দূরের কথা, বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যান। বাধ্য হয়েই প্রশাসনিক শরণাপন্ন হন ভুক্তভোগী নারী। তিনি নিজের, স্বামীর ও সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ এই নরপিশাচের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আমির আলী গা ঢাকা দিয়েছেন। একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, "অভিযোগটি হাতে পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা প্রমাণ মিললেই নেওয়া হবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা।"

মাসুদ রানা সোহাগ / নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad