শাহপরান দরগাহে কোটি টাকার দুর্নীতি,তদন্তের মুখে বিতর্কিত মোতওয়াল্লী

অডিট ও ফরেনসিক নথি তদন্তের দাবি

শাহপরান দরগাহে কোটি টাকার দুর্নীতি,তদন্তের মুখে বিতর্কিত মোতওয়াল্লী

তাহির আহমদ

০৪/১০/২০২৬ ১৭:০২:১০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহপরান (রহ.) দরগাহ ওয়াকফ এস্টেটের (ইসি নং-১৩৬৫১) প্রশাসনিক ও আর্থিক পরিচালনায় দীর্ঘদিনের জমে থাকা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। বিতর্কিত মোতওয়াল্লী সৈয়দ মামুনুর রশিদের কার্যকারিতা, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রহস্যজনক ভূমিকা এবং এস্টেটের অঢেল সম্পত্তির আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অডিটের জোর দাবি উঠেছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সিলেটের পূর্ব শাহী ঈদগাহস্থ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় কার্যালয়ে দরগাহ ওয়াকফ এস্টেট-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ নিয়ে এক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি চলাকালে তদন্তকারী কর্মকর্তার হাতে বর্তমান মোতওয়াল্লী ও প্রশাসনের ভেতরের সিন্ডিকেটের অনিয়ম সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, লিখিত বক্তব্য ও প্রমাণাদি তুলে দেন ক্ষুব্ধ আবেদনকারীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ে (ডায়েরি নং-৭৪১৭) লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এই গণশুনানির আয়োজন করে তদন্ত কমিটি।

দাখিলকৃত নথিতে অভিযোগ করা হয়, দরগাহ এস্টেটের আয়ের প্রধান উৎস—দানবাক্স, মানত-নজরানা, দোকান ও স্থাপনার ভাড়া এবং শত শত একর জমি ইজারার অর্থ সঠিকভাবে ফান্ডে জমা না হয়ে ব্যক্তিগত পকেটে ঢুকেছে। বিশেষ করে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্যাশবুক, লেজার ও ভাউচারের মধ্যে ব্যাপক গরমিল পাওয়া গেছে। অর্থ লোপাটের প্রকৃত চিত্র উদঘাটনে একটি নিরপেক্ষ ‘ফরেনসিক অডিট’ পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারীরা।

শুধু মোতওয়াল্লী নন, দরগাহ এস্টেটের নথি গায়েব ও অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বহাল রাখার পেছনে ওয়াকফ প্রশাসনের সহকারী প্রোগ্রামার মো. শাহ আলম এবং শাখা কেরানি জসিম উদ্দিনের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। পূর্ববর্তী তদন্ত প্রতিবেদন ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি রেকর্ড গায়েব কিংবা বিকৃতির সঙ্গে তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে মূল রেজিস্টার ও নথি চলাচলের তথ্য প্রমাণের দাবি জানানো হয়।

হাইকোর্টের রিট পিটিশন (নং-৬৪৮৬/২০১৪)-সহ সংশ্লিষ্ট আইনি ও সরকারি নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে বর্তমান মোতওয়াল্লী সৈয়দ মামুনুর রশিদের পদে থাকার বৈধতা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। আইনগত কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি ছাড়া তিনি বছরের পর বছর এস্টেট পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এস্টেটের শত শত বিঘা জমি, দোকানপাট ও স্থাবর সম্পত্তির সঠিক খতিয়ান হালনাগাদ করার পাশাপাশি সার্বিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ফেরাতে সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ২৫ সদস্যের একটি নতুন পরিচালনা কমিটির রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়েছে।

অভিযোগকারী ও দরগাহর ভক্তকূলের পক্ষে মো. আমিরুল ইসলাম জানান, "কাউকে পূর্বনির্ধারিতভাবে দোষী করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। সরকারি মূল নথি ও ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে মূল সত্য উন্মোচন হোক এবং দরগাহর ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষা পাক—এটাই আমাদের একমাত্র দাবি।"

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, গণশুনানিতে প্রাপ্ত লিখিত বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনার ভিত্তিতে শিগগিরই চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাখিল করা হবে।

নীরব চাকলাদার/ তাহির আহমদ/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad