এক রাতে ৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সার্কেল এএসপি
হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক রাতেই পাশাপাশি তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়গুলোর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ওয়াশ ব্লকের পানির ট্যাপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মাধবপুর-চুনারুঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রাফিউর রহমান।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বহরা ইউনিয়নের দলগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চৌমুহনী ইউনিয়নের কালিকাপুর ও গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসব চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনটি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
একই রাতে তিনটি বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম চুরি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের ধারণা, মাদকাসক্ত কিছু ব্যক্তি রাতে বিদ্যালয়গুলোতে প্রবেশ করে মাদক সেবনের পর বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি করে থাকতে পারে। তবে এ ধারণার পক্ষে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। চুরির সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন
কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাসিমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চুরির যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ঠ। আমরা পড়াব, নাকি চোর পাহারা দেব? এখন পানির লাইনের সরঞ্জাম চুরি হওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হবে।”
গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুবিনা আক্তার বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে কোনো নৈশপ্রহরী নেই। দ্রুত বরাদ্দ দিয়ে চুরি হওয়া সরঞ্জামগুলো পুনরায় স্থাপনের ব্যবস্থা করা হোক।”
এ বিষয়ে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, “বিদ্যালয়গুলোকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। সার্কেল এএসপি মহোদয়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শন একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছি।”
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক নেতারাও। শিক্ষক নেতা ও সুরমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নয়ন চৌধুরী বলেন, “প্রায়ই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চুরির ঘটনা ঘটছে। নৈশপ্রহরী না থাকায় কিছু বিদ্যালয়ের অবস্থা বেশি খারাপ। চুরির ঘটনায় দায়ের করা জিডি ও অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে চক্রটিকে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে চুরির ঘটনা কমে আসবে।”
মাধবপুর-চুনারুঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাফিউর রহমান বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এক রাতেই তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির এ ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, নৈশপ্রহরী নিয়োগ এবং চুরি হওয়া সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।
রাজীব দেব রায় রাজু/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: