গণভোট অবৈধ হলে বিএনপির সরকারও অবৈধ: হবিগঞ্জে মামুনুল হক
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ গণভোট যদি অবৈধ হয় তবে বিএনপির সরকারও অবৈধ সরকার। র্দূভাগ্যজনকভাবে সরকার যখন জাতীয় সংসদ নিবার্চনে শপথ গ্রহণ করল। সংসদ সদস্য হিসাবে শপথ নিল কিন্তু গণভোটের শপথ তারা নিল না। অথচ দুই নিবার্চন একসাথে হয়েছে। একই দিনে হয়েছে, একই নিবার্চন কমিশনের অধীনে হয়েছে এবং একই সাথে দুই নিবার্চনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ফলাফলে সংসদ নিবার্চনে বিএনপি ভোট পেয়েছে ৫০ পারসেন্ট আর গণভোটে হ্যাঁ ভোট পেয়েছে ৭০ পারসেন্ট। তাহলে সব এক সাথে হল। একই মায়ের গর্ভ থেকে দুই সন্তান জমজ জন্ম নিল। এখন ক্ষমতায় গিয়ে সরকারের মুখপাত্র কয় গণভোট বৈধ না।
আজ শনিবার দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের নিউ ফিল্ড মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস হবিগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য সংগঠনের আমীর আল্লামা মামুনুল হক এসব কথা বলেন।
আল্লামা মামুনুল হক আরও বলেন- জুলাই বিপ্লবের উদ্দ্যেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছি। অন্তবর্তীকালীন সরকার দীর্ঘ ৯ মাস ৩৩ টি রাজনীতিক দলের সাথে জাতীয় ঐক্যমতের কমিশনে ৮৩টি ম্যারাথন অধিবেশন আমাদের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন- জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল মুলত দুইটি উদ্দ্যেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। একটা হল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার জন্য। এমন একটা দেশ হবে যেখানে বৈষম্য থাকবে না। যেখানে বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মের সন্তানেরা মেধার ভিত্তিতে সরকারের সুযোগ পাবে, চাকরী পাবে। কোটা ভিত্তিতে, সিলেকশনের ভিত্তিতে সরকারি দলের চামচামি আর গুন্ডামির করার বিনিময়ে চাকরী হবে না। অর্থাৎ বৈষম্যহীন নিরপেক্ষ বিচার বিভাগের মাধ্যমে একটি ইনসাফের বাংলাদেশ হবে।
আরেকটা উদ্দ্যেশ্য ছিল বৈষম্য বিরোধী এবং ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে সেটা হল বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ বিলুপ্ত হবে। নতুন করে আর কোন ফ্যাসিবাদ জন্ম নিবে না। এভাবে বৈষ্যম্যহীন দেশ গড়ার জন্য আর ফ্যাসীবাদকে বিদায় করার জন্য, ফ্যাসীবাদের পথ বন্ধ করার জন্য জুলাই জাতীয় সনদ গঠিত হয়েছিল। সেই জুলাই জাতীয় সনদে নানাভাবে কিভাবে দেশে বৈষম্য হয়, কিভাবে ফ্যাসীবাদ জন্ম নেয়, সেই রাস্তাগুলো বন্ধ করা হয়েছে। এবং সেইভাবেই সকল রাজনীতিক পথ ও পথেরা মিলে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করেছে।
প্রধান অতিথি আল্লামা মামুনুল হক বলেন- আমাদেরকে বলা হয় যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে অল্প কয়েকদিন হল,সরকারকে সময় দেন। তারপর সরকার ভাল কাজ না করলে তারপর আন্দোলন করেন। আমরাও বলি আমরা সরকারকে সময় দিতে চাই। সরকারকে ১ বছর না ৫ বছর সময় দিতে চাই। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার আমাদের এত খায়েশ ছিল না। আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর ফ্যাসীবাদি স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার বিরূদ্ধে সংগ্রাম করেছি। বছরের পর বছর কারাগারে অন্ধকারে অবরূদ্ধ থেকেছি। আমরাও মনে করেছিলাম আমরা কিছুদিন বিশ্রাম করার সুযোগ পাব।
তিনি বলেন- বিএনপি জাতির সাথে বেইমানি করতে ৬ মিনিট সময় নেয় না। আমরা পরিস্কার ভাষায় বলছি তোমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন কর। জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের দেশের প্রতিটি রাজনীতিক দল এবং জাতির সাথে ধৃত অঙ্গীকারের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার কর। বাংলাদেশ থেকে বৈষম্যর পথ বন্ধ কর। ফ্যাসিবাদের রাস্তা বন্ধ কর। ৫ বছর পর্যন্ত আমরা তোমাদের বিরূদ্ধে কোন আন্দোলন করব না। কিন্তু তোমরা যদি বৈষম্যর পথ বন্ধ না কর, ফ্যাসিবাদের পথ যদি বন্ধ না কর, চাঁদাবাজি বাটপারি যদি বন্ধ না কর। সিন্ডিকেট করে আমার বাংলাদেশের তেল,গ্যাস, বিদ্যুত, সারসহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ভিনদেশীদের হাতে তুলে দিয়ে আমার দেশকে যদি ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র যদি বন্ধ না কর আমরাও আন্দোলন বন্ধ করব না। আমাদের এ আন্দোলন ধীরে ধীরে তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকবে ইনশাল্লাহ।
আল্লামা মামুনুল হক বলেন- এত রক্ত,এত জীবন, এত কান্না, এত হাহাকার, এত আর্তনাথ, এই সবকিছু এক ফ্যাসিবাাদী সরকারকে বিদায় করে নতুন আরেক ফ্যাসিবাদী জন্ম দেবার জন্য হয় নাই। শহীদ শরীফ ওসমান হাদীরা এজন্য রক্ত দেয় নাই। আজ শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার দাবির জন্য সারাদেশ জুড়ে ইনসাফ মার্চ করতে হয়। শহীদ হাদিদের রক্তের বদলা নিতে সরকারের কাছে ধর্ণা দিতে হয়। অথচ ওসমান হাদীরা যদি রক্ত না দিত, জুলাই যোদ্ধারা যদি জীবন না দিত লন্য থেকে বাংলাদেশের প্লেনের টিকেট কাটা হত না। আমরা দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলছি সংবিধান সংস্কার করার যে অঙ্গীকার ছিল, সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে, বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংবিধানে স্থায়ী পরিবর্তনের যে অঙ্গীকার ছিল তা যদি না করে তাহলে বিএনপি ইতিহাসে গাদদার হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের মুল্যবৃদ্ধি ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ আকিলপুরী সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নোমান আহমদ সাদিকের পরিচালনায় এ নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহা-সচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা আব্দুল আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহসিনুল হাসান, সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাঈদ, কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মুফতি হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
ফয়সল চৌধুরি /পূজা বাড়াইক/প্রসি-26
মন্তব্য করুন: