হবিগঞ্জে চণ্ডীপাঠে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু, প্রস্তুত ৬৬৩টি মণ্ডপ

হবিগঞ্জে চণ্ডীপাঠে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু, প্রস্তুত ৬৬৩টি মণ্ডপ

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

১০/১০/২০২৬ ১২:০৭:১৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

দ্বারগোড়ায় বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দেবী দুর্গার আগমন ঘিরে হবিগঞ্জের প্রতিটি প্রতিমালয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। শিল্পীর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় পূর্ণ রূপ পাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন সব প্রতিমা। আজ ১০ অক্টোবর মহালয়ার ভোরে চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এ উপলক্ষে মাতৃবন্দনায় জড়ো হন বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। তাই ব্যস্ততা বেড়েছে প্রতিমা কারিগরদেরও।

তাৎক্ষণিকভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমাশিল্পীরা ব্যস্ত হাতে দেবী দুর্গার অবয়বে গড়ছেন নান্দনিক সব প্রতিমা। যেন দম ফেলার সময় নেই তাদের। খড় আর কাদামাটির অযাচিত মিশ্রণ থেকে দৃষ্টিনন্দন দেবী দুর্গার পূর্ণ অবয়ব দিচ্ছেন শিল্পীরা। এরই মধ্যে আবার কোথাও কোথাও প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তারা শুরু করেছেন রংতুলির আঁচড়।

কোথাও বাঁশ, কাঠ, পাট, খড়, রং বার্নিশসহ বিভিন্ন উপকরণের সমন্বয়ে সাজানো হচ্ছে দেবীর মাতৃরূপ। জেলার ৯টি উপজেলায় প্রতিমাশিল্পীদের এমন ব্যস্ততা চোখে পড়েছে। জেলায় এবার ৬৬৩টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিমাশিল্পীরা জানান, দুর্গোৎসব এলেই তাদের ব্যস্ততা বাড়ে। এই ব্যস্ততা মধুর। বছরের এই সময়টাতে বেশ ভালো আয় হয় তাদের। সেই সঙ্গে শারদের আনন্দ মেলে। প্রতিমাশিল্পী রতীন্দ্র পাল জানান, ছোটবেলা থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ করতেন তিনি। পরিবারের অন্য সদস্যদের কাজ দেখতে দেখতে শিখেন প্রতিমা তৈরির কাজ। এখন তিনি পুরো দমে প্রতিমা তৈরি করেন। বছরের এই সময় তাদের ব্যস্ত থাকতে হয়।

প্রতিমা কারিগর গণেশ পাল জানান, আরও বেশ কয়েক দিন আগে থেকে অর্ডার অনুযায়ী প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এখনও অনেকেই আসছেন। তবে এখন আর অর্ডার নেওয়া হচ্ছে না।

যে প্রতিমাগুলোর কাজ শুরু করেছেন সেগুলোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরপরই রঙের কাজ শুরু হবে। যদিও প্রতিমা কারিগরদের দাবি–প্রতিমা তৈরির সব সরঞ্জামের দাম বেড়েছে। তাই প্রতিমা তৈরিতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ।

হবিগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব বিকাশ চন্দ্র দাশ বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য নেওয়া হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে নিচ্ছে বাড়তি সতর্কতা। এ ছাড়াও অনেকে মণ্ডপ আনা হচ্ছে সিসি ক্যামেরার আওতায়।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে পূজায়। মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি এসআরবি ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা কেউ সৃষ্টি করতে চাইলে শক্তভাবে দমন করা হবে। 

রত্না বাউরী/প্রসি-২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad