জমা পড়েছে ১০৭ সিভি
বিএনপি পরিবারের সদস্য সভাপতি প্রার্থী’: উত্তপ্ত হবিগঞ্জ ছাত্রলীগের রাজনীতি
যেকোন দিন ঘোষণা করা হতে পারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি। আর এই নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে চরম উত্তাপ ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে দলীয় সর্বস্তরে। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি পদ বাগিয়ে নিতে দৌড়ঝাঁপ ও তদবিরে নেমেছেন বিতর্কিত প্রার্থীরাও। বিশেষ করে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে বিএনপি-ছাত্রদল পরিবারের এক সদস্যের নাম আলোচনায় আসায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও সংশয় দেখা দিয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর কার্যক্রম নিষিদ্ধ হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ। পরবর্তীতে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের মাধ্যমে পদপ্রার্থীদের কাছ থেকে ইমেইলে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আহ্বান করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কার্যক্রম নিষিদ্ধ এক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা নিশ্চিত করেছেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদের জন্য সর্বমোট ১০৭টি সিভি জমা পড়েছে। ইতিমধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হবিগঞ্জ জেলার পদপ্রার্থীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি একটি বর্ধিত সভাও সম্পন্ন করেছেন।
তবে জমাকৃত ১০৭টি সিভির মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় ও সমালোচনায় উঠে এসেছে সভাপতি প্রার্থী মোঃ আফিফ জাহান নাঈমের নাম। তার পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নাঈম হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের চিহ্নিত নেতা ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুল জলিল এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আল-আমিন আহমেদ শাকিলের আপন ছোট ভাই।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ তৃণমূল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিগত দিনের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ‘গুপ্ত’ ও অনুপ্রবেশকারীরাই কি আবারও হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের মূল নেতৃত্বে আসবে, নাকি রাজপথের পরীক্ষিত, কারা-নির্যাতিত ও নিবেদিতপ্রাণ ছাত্রনেতারা দায়িত্ব পাবেন?
অভিযোগ রয়েছে, বিতর্কিত এই প্রার্থী নাঈমের দুই ভাই যুবদল নেতা আব্দুল জলিল ও ছাত্রদল নেতা আল-আমিন আহমেদ শাকিল নিজেদের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রলীগের অন্যান্য সম্ভাবনাময় প্রার্থীদের রাজনৈতিক মাঠ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। এমনকি প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের গ্রেপ্তার ও তাদের পরিবারকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে বলেও জানা গেছে। বর্তমানে হবিগঞ্জ জেলাসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে নাঈমের পরিবারের বিএনপি-ছাত্রদল সম্পৃক্ততার নানা ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক সিনিয়র নেতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, "দলের এই কঠিন দুঃসময়ে আওয়ামী লীগকে রাজপথে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে কোনো অনুপ্রবেশকারী বা গুপ্তদের হাতে নেতৃত্ব দেওয়া যাবে না। ৫ আগস্টের পর যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সক্রিয় ছিল, দলের সংকটে মাঠে ছিল এবং যারা দীর্ঘদিন ধরে কারা-নির্যাতিত ও পরীক্ষিত, তাদেরকেই জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বে আনতে হবে।"
অনুরূপ মন্তব্য করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের এক দায়িত্বশীল নেতা। তিনি বলেন, "দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে এবং আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করার কোনো বিকল্প নেই। আর এর জন্য বিএনপি-ছাত্রদল পরিবারের কাউকে জেলা ছাত্রলীগের কোনো দায়িত্বে আনা যাবে না এটি জননেত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট নির্দেশ।"
এখন দেখার বিষয়, বিতর্ক ও উদ্বেগের কালো মেঘ ঠেলে শেষ পর্যন্ত নিবেদিত ও রাজপথের তরুণদের হাতেই জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব সঁপে দেয় কি না কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
নীরব চাকলাদার/ তাহির আহমদ/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: