দিরাইয়ে ফুটবল ম্যাচের পর এবার বন্ধ হলো গানের অনুষ্ঠান

দিরাইয়ে ফুটবল ম্যাচের পর এবার বন্ধ হলো গানের অনুষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিনিধি,দিরাই

২২/১০/২০২৬ ১৫:৩০:৫৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ স্থগিতের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে গানের অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে আপত্তি উঠেছে। স্থানীয় দুই বাসিন্দার লিখিত আবেদনের পর পুলিশের সঙ্গে আলোচনায় গান-বাজনা না করার আশ্বাস দিয়েছেন আয়োজকেরা। এতে অনুষ্ঠানটি ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধের আপাতত অবসান হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামের কাছে হাতিয়া-রাধানগর গ্রামের বাসিন্দাদের পক্ষে লিখিত আবেদন করেন আতাহার আলী রাহাত ও কামরুল হাসান মিটু। আবেদনে তাঁরা প্রস্তাবিত গানের অনুষ্ঠান বন্ধ বা স্থগিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান।

আবেদনে বলা হয়, কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রাম ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামী ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। গ্রামে একটি আলিম মাদ্রাসা, একজন আল্লাহর ওলির মাজার এবং অনেক আলেম-ওলামার বসবাস রয়েছে। এমন পরিবেশে গানের অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন আবেদনকারীরা।

তাঁদের অভিযোগ, আয়োজকদের প্রচার অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে নারী শিল্পীদের দিয়ে গান পরিবেশনের ব্যবস্থা ছিল। এ আয়োজন ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা। গ্রামের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।

দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম প্রথম সিলেটকে বলেন, আবেদন পাওয়ার পর আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাঁরা গান-বাজনা করবেন না বলে আশ্বস্ত করেছেন। ফলে বিষয়টির মীমাংসা হয়েছে।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর দিরাই উপজেলা স্টেডিয়ামে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ স্থানীয় একটি পক্ষের আপত্তির মুখে স্থগিত করা হয়। দিরাইয়ের স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ও সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের মেয়েদের মধ্যে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ও কোচ রাকিব আহমেদ ভূঁইয়া জানান, ম্যাচের আগের রাতে কয়েকজন ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে খেলা বন্ধের দাবি জানান। পরে ইউএনওর সঙ্গে আলোচনার পর ম্যাচটি স্থগিত করা হয়।

রাকিব আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, দিরাই পৌর এলাকার চণ্ডীপুরের বাসিন্দা মাওলানা শরিফ উদ্দিনসহ কয়েকজন খেলার নামে ‘অশ্লীলতা’ বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন। ইউএনওর কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর তাঁরা এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। পরে প্রশাসনের নির্দেশে ম্যাচটি স্থগিত রাখতে হয়।

একই উপজেলায় কয়েক দিনের ব্যবধানে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচের পর গানের অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়েও আপত্তি ওঠায় সাংস্কৃতিক আয়োজনের স্বাধীনতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও স্থানীয় সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

আয়মান মিয়া/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad