সড়ক দুর্ঘটনায় সৌদিআরব ও লিবিয়ায় হবিগঞ্জের দুইজনের মৃত্যু
সৌদিআরবে সড়ক দুর্ঘটনায় জসিম উদ্দিন (২৫) নামের এক যুবক ও লিবিয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মতব্বির হোসেন(৪৫) এর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টার দিকে সৌদি আরবের দাম্মাম জুবেল অঞ্চলে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত বাংলাদেশি যুবকের নাম জসিম উদ্দিন (২৫)। তিনি শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুদিয়াখলা গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের পুত্র। মঙ্গলবার লিবিয়া আলফা মিথিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের হালিতলা গ্রামের মৃত আওর বকতের ছেলে।
নিহত জসিমের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়- জীবিকার তাগিদে তিন বছর আগে সৌদি আরবে যান। ঘটনার দিন কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে দ্রুতগতিতে আসা একটি প্রাইভেটকার তাকে সজোরে চাপা দেয়। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সৌদি আরবে অবস্থানরত নিহতের স্বজন ও সহকর্মীরা সড়ক দুর্ঘটনার খবরটি হবিগঞ্জে তার পরিবারকে জানান। মৃত্যুর সংবাদ বাড়ি পৌঁছানোর সাথে সাথেই শুরু হয় পরিবারের সদস্যদের কান্না ও আহাজারি। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বা প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনেরা।
নিহতের প্রতিবেশীরা জানান, ২ ভাই, ২ বোনের মধ্যে জসিম ছিল সবার ছোট। ছেলেটি অত্যন্ত শান্ত ও কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে প্রবাসে গিয়ে এভাবে অকালে তার প্রাণ চলে যাবে, তা কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
নিহতের আপন দুই চাচাত ভাই সৌদি প্রবাসী রাজু ও শিপন জানান, প্রাভেটকারের চাপায় জসিম ঘটনাস্থলে মারা যায়। বর্তমানে নিহতের মরদেহ সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।
মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবার ও এলাকাবাসী।
এদিকে, স্বপ্নের দেশ ইউরোপে যাওয়ার আশায় লিবিয়ায় গিয়ে গানপুদা কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মতব্বির হোসেন(৪৫)। গত মঙ্গলবার লিবিয়া আলফা মিথিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।তিনি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের হালিতলা গ্রামের মৃত আওর বকতের ছেলে।
নিহত মতব্বির হোসেনের চাচাতো ভাই ও ছোট বোনের স্বামী স্থানীয় সাংবাদিক আবু তালেব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন - ইউরোপের গ্রিসে যাওয়ার আশায় লিবিয়ায় অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি দেশটির কারাগারে আটক হন। সেখানে জটিল অসুস্থতায় আক্রান্ত হলে তাঁকে লিবিয়া আলফা মিথিন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে লিবিয়ার ঐ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
ফয়সল চৌধুরী /নীরব চাকলাদার/ প্রসি/ ২০২৬
মন্তব্য করুন: