বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের ছাপ !
বিয়ানীবাজার কুশিয়ারা নদীতে তীব্র ভাঙন
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুশিয়ারা নদীতে শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর ভাঙনে একের পর এক ঝুঁকির মুখে পড়ছে গ্রামীণ রাস্তা, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। সর্বশেষ উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের উত্তর দেউলগ্রামে নদীভাঙনে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ রাস্তাসহ তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গত সোমবার দুপুরে উত্তর দেউলগ্রামে আকস্মিকভাবে সড়কটির বড় একটি অংশ নদীতে ধসে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যে ঘটে যাওয়া এ ভাঙনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয়দের স্বাভাবিক যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে ওই দিন বিকেলেই ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার।
তবে স্থানীয়রা জানান, কুশিয়ারা নদীর ভাঙন সাধারণত বর্ষা মৌসুমে বেশি হওয়ার কথা থাকলেও এ অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমেও ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। চলতি বছর শুষ্ক মৌসুমের শুরু থেকেই নদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। গত সোমবার থেকে আকস্মিক ভাঙন শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত প্রতিনিয়ত নদীপাড়ের রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের বসতভিটা ও কৃষিজমি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, কুড়ারবাজার ইউনিয়নের দেউলগ্রাম ছাড়াও একই ইউনিয়নের গোবিন্দশ্রী ও উত্তর আকাখাজানা, শেওলা ইউনিয়নের কাকরদিয়া, তেরাদল, বালিঙ্গা ও কোনাশালেশ্বর এবং দুবাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরিয়া ও নয়া দুবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এসব এলাকার বহু পরিবার বসতভিটা ও কৃষিজমি হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
এদিকে, শেওলা ইউনিয়নের কাকরদিয়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় একটি স্টিলের কালভার্ট, সড়ক ও কয়েকটি বসতবাড়িও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে ওই অংশটি সাময়িকভাবে মেরামত করা হলেও গত সপ্তাহে সেখানে আবারও ভাঙন দেখা দেয়। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন বাড়ির উঠান দিয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, কুশিয়ারা নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে বিয়ানীবাজারের নদীতীরবর্তী জনপদে বসতভিটা, কৃষিজমি ও যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দেউলগ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নদীপাড়ে বসবাস করায় ভাঙনের অভিজ্ঞতা তাদের দীর্ঘদিনের। প্রায় প্রতিদিনই নদীপাড়ের কোন না কোন অংশে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। তবে গত সোমবারের ভাঙন ছিল অস্বাভাবিক রকমের তীব্র। অল্প সময়ের মধ্যে গ্রামের চলাচলের রাস্তার বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক চলাচলেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
একই এলাকার বাসিন্দা আশরাফুর রহমান বলেন, নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে গ্রামের অনেক মানুষ বসতভিটা হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়বেন।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, শুষ্ক মৌসুমে কুশিয়ারা নদীতে ভাঙনের প্রবণতা দেখা দেয়। আমি দেউলগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি আমি। তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙন প্রতিরোধে অস্থায়ী ও স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন।
পূজা বাড়াইক/প্রসি-২৬
মন্তব্য করুন: