কেনাকাটার পরিবেশ অসহনীয়
শাহী ঈদগাহে মেলার নামে চরম অরাজকতা: ভিড়ে পিষ্ট দর্শনার্থী
সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ খেলার মাঠে আয়োজিত মাসব্যাপী ‘সৃজনশীল পণ্য প্রদর্শনী, শিল্প-পণ্য ও বাণিজ্য মেলা ২০২৬’ এখন নগরবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগের নাম। ‘সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র ব্যানারে আয়োজিত এই মেলায় স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের তো তোয়াক্কাই করা হয়নি, উল্টো জেলা প্রশাসনের শর্ত অমান্য করে চলছে বেপরোয়া অরাজকতা, কুপন ধান্ধা ও যত্রতত্র মাইকিং।
দীর্ঘ তিন বছর পর সিলেটে মেলা আয়োজনের খবরে উৎসুক দর্শনার্থীরা ভিড় করলেও ফিরছেন তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে। মেলা প্রাঙ্গণে ফাঁকা জায়গার ন্যূনতম উপস্থিতি নেই। গাদাগাদি করে বসানো স্টল, অপরিকল্পিত অলিগলি এবং যত্রতত্র খাবারের দোকানের কারণে কেনাকাটার পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে।
ছেলে-মেয়ে নিয়ে মেলায় আসা সিলেটের একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা শ্যামলী সারওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মেলায় এসে তৃপ্তির বদলে চরম ভোগান্তি নিয়ে ফিরছি। এক স্টল থেকে অন্য স্টলে যেতে ধাক্কা খেতে হয়। সিলেটে এর আগেও মেলা হয়েছে, কিন্তু এমন দমবন্ধ ও গিঞ্জি পরিবেশ কখনো দেখিনি।”
নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে মেলায় ‘উইমেন চেম্বারের জোন’ রাখা হলেও তার চিত্র আরও করুণ। মেলা প্রাঙ্গণে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর এই জোনের ভেতরের পরিবেশ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একেবারেই নিরাপত্তাহীন। বাধ্য হয়ে বিরক্তি ও আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।
দর্শনার্থীদের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে মেলা কর্তৃপক্ষ টিকেট বিক্রি চালু করেছে। সাথে যুক্ত হয়েছে লোভনীয় পুরস্কারের চটকদার প্রচারণা, যাকে দর্শনার্থীরা দেখছেন নতুন ‘ধান্ধাবাজি’ হিসেবে। এর সাথে যোগ হয়েছে শব্দের তাণ্ডব। জেলা প্রশাসনের কড়া নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে নগরজুড়ে বিকট শব্দে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। হাসপাতাল ও ব্যস্ত সড়কগুলোর পাশে এই অহরহ মাইকিংয়ে চরম অসন্তোষ ছড়াচ্ছে নগরবাসীর মধ্যে।
অভিযোগ রয়েছে, মেলা আয়োজনের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের নেপথ্যে রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাবেক এক মন্ত্রীর ভাগ্নে শামীম আহমদ। বিতর্ক এড়াতে শামীম নিজের পরিচয় আড়াল করে সিলেট মহানগর যুবদলের ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহসিন মেহেদী প্রিন্সকে সামনে রেখে মেলার সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই বিতর্কিত অশুভ সিন্ডিকেটের কারণেই প্রশাসনিক শর্ত কিংবা দর্শনার্থী-ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে তোয়াক্কা করছে না আয়োজক কমিটি।
এদিকে মেলায় শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়টি জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের নজরে আনলেও তিনি বিষয়টিকে তেমন আমলে নেননি।
নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: