র‍্যাব সদস্যের খুনি সেই বাপ্পি বিএনপি নেতার ছেলে
Led Bottom Ad

পিতার ‘ত্যাজ্য পুত্র’ নাটক!

র‍্যাব সদস্যের খুনি সেই বাপ্পি বিএনপি নেতার ছেলে

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২৪/০৫/২০২৬ ০৫:৫৯:২১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে খোদ র‍্যাব সদস্যকে প্রকাশ্যে বুক চিরে খুন! সিলেট নগরীতে র‍্যাব-৯-এর অকুতোভয় সদস্য ইমন আচার্যকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) সকালে কোতোয়ালি থানায় একমাত্র ঘাতক আসাদুল আলম বাপ্পি (২২)-কে আসামি করে এই মামলা ঠুকে দেন নিহতের ভাই সুজিত আচার্য।


গ্রেফতারকৃত এই দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী ও খুনি বাপ্পি নগরীর কাজিরবাজার এলাকার বাসিন্দা এবং ১৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেনের ছেলে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বাপ্পি তার পিতার দলীয় প্রভাবকে ঢাল বানিয়ে গোটা এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।


কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রথম সিলেটকে জানান, গ্রেফতারকৃত বাপ্পি আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এরপর বিচারকের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে নিহত র‍্যাব সদস্য ইমনের মরদেহ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে তার গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।


র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার নগরীর ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজ এলাকায় মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় সাদা পোশাকে থাকা র‍্যাব সদস্য ইমন আচার্য অপরাধী বাপ্পিকে ঝাপটে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাপ্পি তার কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে ইমনের বুকের বাম পাশে সজোরে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ইমনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


এখানেই শেষ নয়, কাপুরুষোচিত হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় এই খুনি এক বাসায় ঢুকে এক শিশুকে গলায় ছুরি ধরে জিম্মি করার চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে শিশুটিকে অক্ষত উদ্ধার করা হয় এবং বাপ্পিকে রক্তমাখা ছুরিসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধৃত বাপ্পি একজন পেশাদার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় ইতিপূর্বেও ধর্ষণ, ছিনতাই ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।


তবে ঘটনার পর স্বভাবসুলভভাবেই দায় এড়ানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে দলীয় পর্যায় থেকে। সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, তার অপকর্মের জন্য পিতা তাকে মৌখিকভাবে ত্যাজ্য করেছেন। আর অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা উচিত।"


তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন—যখন এই অপরাধী দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছিল, তখন কেন তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করা হলো না? এখন র‍্যাব সদস্য খুনের মতো জঘন্য অপরাধের পর ‘ত্যাজ্য পুত্র’ তত্ত্ব দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ছাড়া আর কিছুই নয়।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad