সিলেটে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে বিরোধ: প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ আহত ১৪
Led Bottom Ad

সিলেটে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে বিরোধ: প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ আহত ১৪

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২৪/০৫/২০২৬ ২১:১৭:০৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১২ নম্বর সদর ইউনিয়নের লুনী গ্রামে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জেরে কামরুল ও খয়রুল বাহিনীর নেতৃত্বে স্থানীয় সংবাদকর্মী লোকমান আহমদের বাড়িতে এক বর্বরোচিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে; এই সশস্ত্র হামলায় নারী ও পুরুষসহ একই পরিবারের অন্তত ১৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একজনের হাত থেকে আঙুল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অদ্য ২৪ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রোববার ভোর ৫টার দিকে লুনী গ্রামে এই নৃশংস হামলার ঘটনাটি ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত ব্যক্তিরা হলেন— তোফায়েল (২৩), জালাল উদ্দীন (৩৪), লিমা বেগম (২৫), আলকুমা বেগম (৩৫), আল আমিন (২২), রুহুল আমিন (১৯), উস্তার মিয়া (৩৮), ফখরুল ইসলাম (৪০), দেলোয়ার হোসেন (৫২), মুহিবুর রহমান (৫৫), সিরাজ উদ্দিন, মাসুক আহমদ (৪০), লোকমান (৩৫) ও আলিফান বিবি। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কইন্নাজঙ্গল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী কামরুল ও খয়রুল বাহিনীর নেতৃত্বে সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলন ও বিপণনের কাজ চলছিল; ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী লোকমান আহমদের ভাতিজা তোফায়েল পূর্বে ওই বালু উত্তোলন চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও প্রায় ২০ দিন আগে তিনি ওই দল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে নিজে এককভাবে বালুর ব্যবসা শুরু করেন। তোফায়েলের এই আলাদা ব্যবসা শুরুর বিষয়টি কামরুল ও খয়রুল বাহিনী মেনে নিতে পারেনি এবং এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র ক্ষোভ ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পূর্ব বিরোধের জেরে রোববার ভোররাতে কইন্নাজঙ্গল বালু উত্তোলনস্থলের পাশে অবস্থিত শ্রমিকদের একটি অস্থায়ী ঘরে (ওড়া) ঘুমন্ত অবস্থায় তোফায়েল এবং সংবাদকর্মী লোকমানের ভাই উস্তার আলীর ওপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে আচমকা হামলা চালায় প্রতিপক্ষ কামরুল ও খয়রুলের সশস্ত্র ক্যাডাররা; এ সময় হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে উস্তার আলীর হাতের একটি আঙুল শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরবর্তীতে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় হামলার শিকাররা প্রাণভয়ে চিৎকার করতে করতে নিজেদের বাড়ির দিকে ছুটে গেলে প্রতিপক্ষের ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সুসংগঠিত সশস্ত্র দল রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে লুনী গ্রামে সংবাদকর্মী লোকমান আহমদের বাড়িতে এসে চড়াও হয় এবং পুরো বাড়ি জুড়ে ব্যাপক তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় হামলাকারীরা ঘরের ভেতর ঢুকে বাধা দিতে যাওয়া নারীদেরও নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে এবং ঘরবাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আনুমানিক লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী লোকমান আহমদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সম্পূর্ণ পূর্ব শত্রুতা ও অবৈধ বালু ব্যবসার একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে সন্ত্রাসী কামরুল ও খয়রুলের সরাসরি নেতৃত্বে আমাদের পরিবারের ওপর এই পরিকল্পিত ও নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে; তারা প্রথমে আমার ঘুমন্ত ভাই ও ভাতিজাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে আঙুল বিচ্ছিন্ন করে এবং পরে দলবল নিয়ে আমাদের বসতবাড়িতে এসে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে পিটিয়ে জখম ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে। আমাদের পরিবারের ১৪ জন মানুষ এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং এ ঘটনায় আমরা গোয়াইনঘাট থানায় একটি সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।” এদিকে হামলার মূল অভিযুক্ত কামরুলের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “কইন্নাজঙ্গল এলাকায় বালু উত্তোলন ও ব্যবসা সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে এই মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে এবং এতে দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে আমরা খবর পেয়েছি; ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ বা এজাহার দিলে তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে অত্যন্ত কঠোর ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad