মসজিদের জুমার খুতবাতেও দেওয়া হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা: সিসিক প্রশাসক

মসজিদের জুমার খুতবাতেও দেওয়া হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা: সিসিক প্রশাসক

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৯/০৬/২০২৬ ১৯:২৭:৩৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

বর্ষার আগমনে ডেঙ্গুর মূল মৌসুম শুরু হওয়ায় মশার বংশবৃদ্ধি রোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এবার সিলেটের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোকে সম্পৃক্ত করার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। পবিত্র জুমার খুতবায় খতিব ও ইমামদের মাধ্যমে ডেঙ্গু ও এডিস মশা প্রতিরোধের ধর্মীয় ও সামাজিক সচেতনতামূলক বার্তা প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় পৌঁছে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে ডেঙ্গু সচেতনতা ও মশক নিধন র‍্যালি শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানান।

সিসিক প্রশাসক বলেন, “আমরা একটি ডেঙ্গুমুক্ত সুস্থ নগরী গড়ে তুলতে চাই এবং সে লক্ষ্যে ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে আমরা প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শুরু করেছি। এখন ডেঙ্গুর মূল মৌসুম শুরু হওয়ায় সবাইকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে; জনসচেতনতা বাড়াতে সাধারণ মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণার পাশাপাশি নগরীর প্রতিটি মসজিদের জুমার খুতবায়ও ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা তুলে ধরার জন্য আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ অনুরোধ জানাব, যেন মুসল্লিরা নিজেদের ঘর ও আঙিনা পরিষ্কার রাখতে উদ্বুদ্ধ হন।”

এখন পর্যন্ত সিলেট নগরীতে কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি জানিয়ে সিসিক প্রশাসক বলেন, আক্রান্ত হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে আমরা আগাম সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি; অতীতেও সিলেটে ডেঙ্গুর প্রকোপ কম ছিল এবং সবাই সচেতন থাকলে এবারও নগরবাসীকে নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে। আগামী মাস (জুলাই) থেকে সিসিকের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা স্কোয়াড প্রতিটি বাসাবাড়িতে গিয়ে এডিস মশার লার্ভা পরীক্ষা করবে এবং কোথাও লার্ভা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তা স্প্রে করে ধ্বংস করা হবে। এ প্রসঙ্গে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, নগরবাসী অত্যন্ত দায়িত্বশীল, তাই প্রাথমিকভাবে কোথাও এডিসের লার্ভা পাওয়া গেলে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা জরিমানা করব না; বরং সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিটি বাড়িতে লার্ভা নিধনের ওষুধ নিয়ে যাওয়া হবে। অন্যদিকে সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়া মাত্রই সিসিকের ‘কুইক রেসপন্স টিম’ তাৎক্ষণিক আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িসহ আশেপাশের অন্তত ২০টি বাড়িতে চিরুনি অনুসন্ধান চালাবে এবং লার্ভা ধ্বংস করবে। আজ সকালে সিসিকের প্রধান কার্যালয় নগর ভবন প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়া এই সচেতনতা র‍্যালিতে সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীনসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।


এ রহমান

মন্তব্য করুন: