আগের অবস্থায় ফিরবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ আশ্বাস :প্রধানমন্ত্রীর
শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ আগস্টে সংকট ঘনীভূত হওয়ার আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত থেকেই নতুন করে তৈরি হওয়া সংকটের উন্নতি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে এ আশ্বাস দেওয়া হয়। বৈঠকে ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মো. ফজলুল হক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আগামীকাল রাত থেকেই ইনশাআল্লাহ আমাদের নতুন করে যে সংকট তৈরি হয়েছে, এর আগের যে অবস্থায় আমরা ছিলাম, গ্যাস বিদ্যুতের ওই অবস্থায় ফিরে যেতে পারব।
“এইটা আমাদের মনে হয় যে আজকের এই বৈঠকের সবচাইতে বড় প্রাপ্তি, সবচাইতে বড় স্বস্তির খবর।
‘আগের অবস্থায়’ বলতে কোন সময়কে বোঝানো হয়েছে জানতে চাইলে ফজলুল হক বলেন, “আগস্ট মাসে যে সংকট ঘনীভূত হয়েছে, তার আগের অবস্থায়।”
এদিকে কয়েক দিন আগে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছিলেন, সরকারি উদ্যোগ এবং বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস আমদানির ব্যবস্থা নেওয়ায় কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ আগের পর্যায়ে ফিরবে।
তিনি বলেছিলেন, “সরকারের উদ্যোগ এবং বিকল্প উৎস থেকে আমদানি ব্যবস্থার ফলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পূর্বের অবস্থায় ফিরবে।”
গত কয়েক দিন ধরে রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এর প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানার উৎপাদনেও। গ্যাস সংকটের কারণে অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শুধু শিল্প খাত নয়, বাসাবাড়ি, হোটেল ও রেস্তোরাঁতেও গ্যাসের সংকটে রান্নাবান্নায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে বাড়তি খরচ ও নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পাইপলাইনের গ্যাস না থাকায় অনেক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খাবার প্রস্তুত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, সিএনজি স্টেশনগুলোতেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহনের সারি দেখা যাচ্ছে।
এর আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছিলেন, সরকার গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে কাজ করছে এবং এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: