স্বামীকে ‘ডাকাত’ আখ্যা দিয়ে বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ স্ত্রীর
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় স্বামীকে ‘ডাকাত’ আখ্যা দিয়ে গভীর রাতে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিকার এবং পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক গৃহবধূ।
আজ সোমবার (২৯ জুন) দুপুর দুইটার দিকে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের পুরানগাঁও গ্রামের বাসিন্দা জায়েদা বেগম। এ সময় তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে জায়েদা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী আব্দুল ওয়াহিদের বিরুদ্ধে ১০-১৫ বছর আগে কয়েকটি মামলা থাকলেও অধিকাংশ মামলা আদালত থেকে নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে তিনি অপরাধসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করেন। এ কারণে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল তাঁদের পরিবারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং এলাকা থেকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করে।
জায়েদা বেগমের অভিযোগ, গত ৩১ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে এলাকার বসু মিয়া, শানু মিয়া, আলমগীর মিয়া, আল আমীন, সুমন মিয়া ও হিফজুর মিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র ও পেট্রোল নিয়ে তাঁদের বাড়ি ঘেরাও করে। হামলাকারীরা দুটি বসতঘরের চারপাশে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার সময় তাঁর স্বামীর দুই পরিবারের সদস্য এবং পাঁচ সন্তান ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ আগুন দেখে প্রাণ বাঁচাতে সবাই ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায়। তবে ততক্ষণে আগুনে দুটি বসতঘরের প্রায় সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, অগ্নিকাণ্ডে তাঁদের প্রায় ৪১ লাখ ৪১ হাজার টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। আগুনে দুই ভরি সোনা, ২৫ ভরি রুপা, নগদ ১ লাখ ২২ হাজার টাকা, আসবাবপত্র, ফ্রিজ, টেলিভিশন, আলমারি, দুটি গরু, হাঁস-মুরগি, ধান এবং একটি খরগোশের খামারের বহু খরগোশ পুড়ে গেছে। এ ছাড়া সন্তানদের শিক্ষা সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে। অগ্নিসংযোগের পরদিন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এসে পুড়ে যাওয়া ঘরের টিন, গ্রিল ও ইটসহ বিভিন্ন সামগ্রী খুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জায়েদা বেগম জানান, এ ঘটনায় তিনি হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (দ্রুত বিচার) আদালতে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা করার পর জানতে পেরেছেন কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এমদাদুল হক আড়াল থেকে এই ঘটনার ইন্ধন জুগিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদুল হকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গৃহবধূর দাবি, মামলা করার পর থেকে আসামিদের ভয়ে তাঁরা নিজ এলাকায় ফিরতে পারছেন না এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মামলার সাক্ষীদেরও বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কাছে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
স্বপন রবি দাশ / সজল আহমদ
মন্তব্য করুন: