কুলাউড়ায় তিন সন্তান ও লক্ষাধিক টাকা নিয়ে স্ত্রী উধাও!

সংবাদ সম্মেলনে স্বামীর অভিযোগ

কুলাউড়ায় তিন সন্তান ও লক্ষাধিক টাকা নিয়ে স্ত্রী উধাও!

নিজস্ব প্রতিনিধি, কুলাউড়া

২০/০৭/২০২৬ ২২:৪২:৩১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় তিন সন্তান ও লক্ষাধিক টাকা নিয়ে স্বামীর ঘর ছেড়েছেন দিনমজুরের স্ত্রী মৌসুমী বেগম (২৭)। শুধু তাই নয় স্বামীর বিরুদ্ধে তিনি গ্রাম আদালতে মামলা দিয়ে পরাজিত হয়ে থানায় দিয়েছেন মিথ্যা অভিযোগ। পরে মৌসুমী তার স্বামীর ভাগ্নেকে প্রভাবিত করে শশুরের বিরুদ্ধে করিয়েছেন ধর্ষণ মামলা। ২০ জুলাই বিকেলে স্ত্রীর একের পর এক মামলা ও হয়রানিতে অতিষ্ঠ হয়ে স্বামী আমিন মিয়া প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। 

জানা যায়, ভাটেরা ইউনিয়নের ইসলামনগর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আলাই মিয়ার মেয়ে মৌসুমী বেগমের সাথে ২০১৬ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন বরমচাল ইউনিয়নের কালিয়ারগড়ের আমিন। সংসার জীবনে তাহমিদ (৮), মরিয়ম (৭) ও আমেনা (৪) নামে তাদের তিন সন্তান রয়েছে। কিন্তু নানা অজুহাতে স্বামী আমিন মিয়ার অবাধ্য হয়ে বাবার বাড়ি যাবার কথা বলে বিভিন্ন স্থানে চলে যায় স্ত্রী মৌসুমী। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হয়। সালিশে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়, স্বামী ও শশুরের অনুমতি ছাড়া বাড়ি থেকে বাহির না হওয়ার জন্য। কিন্তু তাদের কথা অমান্য করে বেপরোয়া চলাফেরা শুরু করেন মৌসুমী। বিভিন্ন সময় নানা মিথ্যা নাটক সৃষ্টি করে প্রথমে বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। গ্রাম আদালত স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ নিষ্পত্তি করে দিয়ে সুন্দরভাবে সংসার পরিচালনার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু গ্রাম আদালতের রায় মেনে কিছুদিন ভালো চললেও আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠে মৌসুমী। স্বামীর সাথে খারাপ আচরণ করে ঘরে থাকা স্বামীর উপার্জিত অর্থ ও গরু বিক্রির লক্ষাধিক টাকাসহ উধাও হয় মৌসুমী। 

আমিন মিয়া আরো বলেন- বিষয়টি আমার এলাকার মেম্বার ও ভাটেরার মেম্বারকে অবগত করি। সে আমাকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করার জন্য থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। আমি আমার স্ত্রীকে ফোনে বাড়িতে আসার জন্য বললে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বলে তাকে তালাক দেয়ার জন্য। যা মোবাইলে রেকর্ড রয়েছে। এছাড়া আমার বৃদ্ধ পিতাকে ফাঁসাতে আমার ভাগ্নী নাদিয়াকে দিয়ে মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দেয়। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত না করে আমার পিতাকে জেলহাজতে প্রেরণ করে। 

এদিকে মামলার বাদী আমিন মিয়ার ভাগ্নি নাদিয়া আদালতে একটি আপোষনামা দাখিল করেছেন বলে জানা গেছে। আমিন মিয়াও গত ২২ জুন তিন সন্তানকে ফেরত চেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মৌলভীবাজারে একটি মামলা দায়ের করেন। 

এ ব্যাপারে বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আহমদ খান সুইট বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ আমি সমাধান করে দিয়েছি। তারপরও তাদের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়,  বিষয়টি এখন আর আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। কুলাউড়া থানার (ওসি) তদন্ত হাবিবুর রহমান বলেন, মেডিকেল রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হবে। যদি মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ না আসে তাহলে আসামীকে বাদ দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত। এছাড়া বাদী যে আপোষনামা আদালতে জমা দিয়েছে সেটাও পুলিশের নজরে এসেছে।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad