ইনসুলিনেই হতে পারে মৃত্যু, কীভাবে চিনবেন টাইপ-৫ ডায়াবেটিস
টাইপ-৫ হলো দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টির কারণে সৃষ্ট এক ধরণের ডায়াবেটিস। শৈশব বা দীর্ঘদিনের অপুষ্টির কারণে শরীরের অগ্ন্যাশয় (Pancreas) ঠিকমতো তৈরি বা বিকশিত হতে পারে না, ফলে শরীরে পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি হয় না।
এটি সাধারণত এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের চরম অপুষ্টিতে ভোগা বা মারাত্মক কম ওজনের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
সাধারণ ডায়াবেটিসে শরীর হয় ইনসুলিন তৈরি একেবারেই বন্ধ করে দেয় (টাইপ-১), না হয় ইনসুলিন ব্যবহারে বাধা দেয় (টাইপ-২)। কিন্তু টাইপ-৫ আক্রান্ত রোগীদের শরীরে কিছুটা ইনসুলিন তৈরি হলেও তারা ইনসুলিনের প্রতি অত্যধিক সংবেদনশীল হন।
এর ফলে বড় বিপদ ঘটে:
ভুল করে একে টাইপ-১ ভেবে সাধারণ মাত্রায় ইনসুলিন দিলে শরীরে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যায় (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)।
এর ফলে অনেক রোগী সকালে আর ঘুম থেকেই উঠতে পারেন না, অর্থাৎ মৃত্যু ঘটে।
৩. স্বীকৃতি ও বিতর্ক: আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভিন্নমত
আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন (IDF): সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে 'টাইপ-৫ ডায়াবেটিস' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং নতুন চিকিৎসা নির্দেশিকা তৈরির কাজ করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO): তারা এখনও পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাবে এটিকে পুরোপুরি আলাদা রোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, তবে স্বীকার করেছে যে তাদের বর্তমান নিয়মাবলী সব রোগীর অবস্থার ব্যাখ্যা দিতে পারে না।
অন্যান্য গবেষকরা: কেউ কেউ মনে করেন এটি আলাদা রোগ নয়, বরং কম ওজনের মানুষের শরীরে টাইপ-১ বা টাইপ-২ এর একটি ভিন্ন রূপ মাত্র।
৪. বর্তমান লক্ষণ ও ভবিষ্যতের আশঙ্কা
উপসর্গ: অন্ধত্ব, কিডনি ও স্নায়ুর ক্ষতি, ধীরগতিতে ক্ষত শুকানোর মতো সাধারণ ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো এতেও দেখা যায়।
পরীক্ষা: নির্দিষ্ট কোনো টেস্ট না থাকায় শৈশবের অপুষ্টি, কম ওজন ও লক্ষণ দেখে এটি অনুমান করা হয়।
ভবিষ্যৎ ঝুঁকি: বর্তমান বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ ও খাদ্য সংকটের কারণে অপুষ্টির হার বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে টাইপ-৫ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: