পশ্চিমবঙ্গে ‘জুলাই’ নিয়ে কাড়াকাড়ি

পশ্চিমবঙ্গে ‘জুলাই’ নিয়ে কাড়াকাড়ি

প্রথম ডেস্ক

২১/০৭/২০২৬ ১৪:২৭:১৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একসময় যে ২১ জুলাই প্রায় এককভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচয়ের অংশ ছিল, সেই দিনটিই এবার একাধিক রাজনৈতিক দলের দাবির কেন্দ্রবিন্দুতে। শহীদ দিবসের উত্তরাধিকার ও রাজনৈতিক গুরুত্ব নিজেদের পক্ষে টানতে মঙ্গলবার কলকাতায় আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন করছে জাতীয় কংগ্রেস, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এবং এনসিপিআই।

রাজনৈতিক এই বিভাজনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই নিহতদের পরিবারগুলোর ওপর। একাধিক সংগঠন তাদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোয় অনেকেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। কার কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন তাদের অনেকে।

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভোটারদের সচিত্র পরিচয়পত্রের দাবিতে কলকাতার মহাকরণ অভিমুখে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পথে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুলিতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মী নিহত হন। এরপর থেকেই দিনটি ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়ে আসছে।

প্রথম দিকে জাতীয় কংগ্রেস এ দিনটি পালন করলেও ১৯৯৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শহীদ দিবসকে নিজের দলের অন্যতম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপ দেন। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর এ আয়োজন আরও বিস্তৃত হয়।

তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনে তৃণমূলের ভেতরে বিভক্তি তৈরি হওয়ায় ২১ জুলাই ঘিরে একচ্ছত্র অবস্থানও ভেঙে গেছে। দলটির বিভিন্ন অংশ এখন আলাদা পরিচয়ে কর্মসূচি পালন করছে। একই সঙ্গে পুরোনো ঐতিহাসিক ঘটনার সূত্র ধরে জাতীয় কংগ্রেসও আবার নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান জোরালো করার চেষ্টা করছে।

আদালতের অনুমতি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে আলাদা সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’ মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে কর্মসূচি করছে। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালীঘাট তৃণমূল’ বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের কাছে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাদের সমাবেশে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি মানুষ অংশ নিতে পারবেন না এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কর্মসূচি শেষ করতে হবে।

এদিকে জাতীয় কংগ্রেস শহীদ মিনার চত্বরে সমাবেশ ও ১৯৯৩ সালের ঘটনার আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। সেখানে শহীদ পরিবারের কয়েকজন সদস্যও অংশ নিচ্ছেন।

একসময় একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা ২১ জুলাই এবার পশ্চিমবঙ্গের বিভক্ত রাজনীতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। দিনটির রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এই প্রশ্নকে ঘিরেই নতুন করে শুরু হয়েছে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা।

এদিকে জুলাই দখলের এই রাজনীতির মধ্যে বড় ধরনের ‘মাস্টারস্ট্রোকের’ ইঙ্গিত দিয়েছেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেতা এবং বর্তমান বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওড়িশা হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করেছিলেন। কমিশন ২০১৪ সালে ৭০০ পৃষ্ঠার একটি রিপোর্ট জমা দিলেও তা কোনো দিন বিধানসভায় পেশ করা হয়নি বা সাধারণের সামনে আনা হয়নি।

রত্না বাউরী

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad