চার্জশিট ঘিরে তোলপাড়
বড়লেখা ভূমি অফিসের খতিয়ান জালিয়াতি মামলায় সব আসামির অব্যাহতি
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা ভূমি অফিসের বহুল আলোচিত খতিয়ান জালিয়াতি মামলায় সব আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করায় উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই প্রলয় রায় গত ২৩ এপ্রিল আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন।
অভিযোগ রয়েছে, তদন্তে ভূমি অফিসের ভেতর ও বাইরের জালিয়াত চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কথা থাকলেও, চার্জশিটে মামলার সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বড়লেখা উপজেলা ভূমি অফিসের একটি অসাধু সিন্ডিকেট সরকারি ১/১ খতিয়ানের ১২ শতাংশ জমি তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি করে। পরে ওই জমির ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করা হয়।
গত বছরের ৭ মে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসলাম সারোয়ার রেকর্ড পর্যালোচনার সময় বিষয়টি শনাক্ত করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা জালিয়াতির কথা স্বীকার করলে তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এ ঘটনায় ভূমি মালিক আব্দুছ ছাত্তার, আব্দুল জব্বার, আব্দুল কুদ্দুছ, ভূমি অফিসের কর্মচারী রাসেন্দ্র কুমার দাস ও কাব্য চন্দ্রের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তের সময় আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল এবং তদন্তকারী কর্মকর্তারা তখন ভূমি অফিসের আরও ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
তবে দীর্ঘ তদন্ত শেষে সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা এসআই প্রলয় রায় আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেন এবং সবাইকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, যদি অভিযোগের সত্যতা না-ই থাকে, তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার এবং দীর্ঘদিন কারাবাসের দায় কার?
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই প্রলয় রায় বলেন, "আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার মতো তেমন কোনো এভিডেন্স পাওয়া যায়নি। বাদী চাইলে আদালতে চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করতে পারেন।"
হিফজুর/ মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: