ডায়াগনস্টিকের ‘অলৌকিক’ গ্রোথ প্রসেস
মৌলভীবাজারে ১৪ দিনের শিশু এক রাতে ‘১৪ মাস’!
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক রিপোর্টে রাতারাতি ১৪ দিনের দুধের শিশু হয়ে গেল ১৪ মাসের এক ফুটফুটে পুতুল! বিজ্ঞানের সব থিওরি, আইনস্টাইন থেকে শুরু করে চিকিৎসাবিজ্ঞানের গ্যালাক্সিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই ‘অলৌকিক’ কাণ্ডটি ঘটিয়েছে মৌলভীবাজার শহরের তথাকথিত শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘সেইফ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার’।
নামে ‘সেইফ’ (নিরাপদ) হলেও তাদের মেধা আর কাজের বহর দেখে আপাতত আতঙ্কে কাঁপছেন ভুক্তভোগীরা। মানুষের জীবন নিয়ে এমন রসাত্মক কিন্তু প্রাণঘাতী ছিনিমিনি খেলায় পুরো জেলাজুড়ে এখন বইছে ক্ষোভের হাওয়া।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২১ জুলাই। মাত্র দুই সপ্তাহের এক অবুঝ নবজাতককে শারীরিক জটিলতার কারণে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান স্বজনরা। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনটি রক্তের নমুনা দেওয়া হয়। এরপর অতি সাধ্য সাধনা শেষে সময়মতো রিপোর্টও হাতে পান অভিভাবকরা। তবে রিপোর্ট খুলেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! যে বাচ্চা জন্মাল সেদিন, ডায়াগনস্টিকের ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের কলমের এক খোঁঁচায় তার বয়স হয়ে গেছে ১ বছর ২ মাস!
বিশেষজ্ঞদের মতে, কম বেতনে সস্তা ও অদক্ষ ‘টেকনিশিয়ান’ দিয়ে ব্যবসা চালানোর এই ধান্ধাবাজি কোনো সাধারণ ভুল নয়, একপ্রকার জীবননাশের ডিজিটাল চেষ্টা! কারণ, ১৪ দিনের নবজাতক আর ১৪ মাসের বাচ্চার শরীরের হরমোন, রক্ত ও ওষুধের সহনশীলতা আকাশ আর পাতাল। এই 'অলৌকিক' রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ডাক্তার যদি ১৪ মাসের ডোজের কোনো অ্যান্টিবায়োটিক লিখে দিতেন, তবে ওই কচি প্রাণটির কী দশা হতো, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন সবাই।
চরম আক্ষেপ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী পরিবার জানান, "টাকা দিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসি সঠিক চিকিৎসার আশায়। কিন্তু এখানে তো এসে দেখি সস্তার অদক্ষ লোক বসিয়ে মৃত্যুর ফাঁদ পেতে রাখা হয়েছে! এদের কড়া শাস্তি হওয়া দরকার।"
এই অদ্ভুত ক্যারেক্টার সার্টিফিকেটের ব্যাখ্যা জানতে সেইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগের বহু চেষ্টা করা হলেও কর্তৃপক্ষের কোনো সদুত্তর মেলা দূরে থাক, সশরীরে তাদের পাত্তাই পাওয়া যায়নি।
মৌলভীবাজারের সচেতন মহলের তীব্র কটাক্ষ—বেসরকারি এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার এখন চিকিৎসার নাম করে জাদুকরী ল্যাব খুলে বসেছে। কম টাকায় অদক্ষ লোক খাটিয়ে মালিকদের পকেট তো ভারী হচ্ছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের কপালে জুড়ছে ভুল চিকিৎসা আর জীবনের ঝুঁকি। জেলা সিভিল সার্জন ও প্রশাসন যদি এখনই ঘুম থেকে উঠে এই ‘জাদুকরী’ ল্যাবগুলোতে সাঁড়াশি অভিযান না চালায়, তবে অচিরেই হয়তো কোনো বৃদ্ধের বয়সের জায়গায় লেখা দেখা যাবে ‘১৪ দিন’!
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: