ছাতক গোবিন্দগঞ্জ সিলেট সড়কের বেহাল দশা
ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ-সিলেট সড়কের প্রায় ১৩ কিলোমিটার অংশের অন্তত ১০টি স্থানে ভয়াবহ ভাঙনসহ বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারা বাজার এবং সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার একাংশসহ প্রায় লক্ষাধীক যাত্রী, পথচারী ও বিভিন্ন ধরনের মালামাল বহনকারী যানবাহনের চালকরা। সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এ সড়কটি দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় যাত্রী ও চালকরা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সরেজমিনে গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছাতক পর্যন্ত সড়ক ঘুরে দেখা যায়, তকিপুর এলাকায় প্রায় ৩০০ ফুট সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ঝাওয়া ব্রীজ এলাকায় পুলিশ বক্সের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে প্রায় ২০০ ফুট সড়কজুড়ে এক থেকে দেড় ফুট গভীর অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। এছাড়া সুফিনগর, তাজপুর, হাসনাবাদ, মাধবপুর, হাসান চত্বর, ২ নম্বর সেতু এলাকা এবং রহমতবাগসহ সড়কের অন্তত ১০টি স্থানে বেহাল চিত্র দেখা গেছে।
অন্যদিকে, ঝাওয়া ব্রীজ থেকে তাজপুর পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে ঝোপঝাড় ও জঙ্গল বেড়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে হাসনাবাদ বাজার থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত সড়কের অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক। বিভিন্ন স্থানে সড়ক দেবে গিয়ে ঢেউখেলানো আকার ধারণ করেছে এবং বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে ১২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সর্বোচ্চ ২০ মিনিট সময় লাগলেও বর্তমানে একই পথ পাড়ি দিতে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। এতে যাত্রীদের পাশাপাশি গর্ভবতী নারী ও রোগী পরিবহনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কের একাধিক স্থানে ভাঙ্গন থাকায় প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
একাধিক চালক জানান, সড়কের বড় বড় গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত তাদের যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছোটখাটো একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে পণ্যবাহী ভারী যানবাহনের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সোহেল আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান বলেন, এটি উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করছে। বর্তমানে এটি কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন চালক, যানবাহনের মালিক, শ্রমিক নেতা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে ছাতক সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাদাৎ হোসেন বলেন, সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করতে শিগগিরই মেরামত কাজ শুরু হবে।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: