দুর্নীতির অভিযোগে সিলেটের টিটিসির ড্রাইভার বিল্লালকে দিনাজপুরে বদলি
দীর্ঘ দুই দশকের প্রভাব ও একের পর এক অনিয়মের অভিযোগের মুখে অবশেষে সিলেট সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) ড্রাইভার কাজি বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সিলেট টিটিসিকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা ও জনস্বার্থে তাকে দিনাজপুরে শাস্তিমূলক বদলি করেছে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। বিএমইটির প্রশাসন শাখার সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ আনাম স্বাক্ষরিত আদেশে জানানো হয়, আজ বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিলে তিনি বর্তমান কর্মস্থল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।
একই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০ বছর ধরে কর্মরত থাকার সুবাদে বিল্লাল হোসেন অঘোষিত প্রভাব বলয় গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভর্তি বাণিজ্য, স্থানীয়দের সঙ্গে দুব্যবহার, সিলেটের আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে কটূক্তি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন ও স্মারকলিপি দেয় 'সিলেট নাগরিক অধিকার পরিষদ'। এমনকি তার স্ত্রী একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকায় তিনি ক্ষমতার অতিরিক্ত অপব্যবহার করতেন বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে এসব অভিযোগ তদন্তে চলতি বছরের এপ্রিলে একটি তদন্ত দল সিলেটে আসে। তবে তদন্তকালে প্রভাব খাটিয়ে নিজের পক্ষে সাক্ষ্য নেওয়া এবং ঘুষের বিনিময়ে অনুকূল প্রতিবেদন হাসিল করার অভিযোগ তোলে স্থানীয় সামাজিক সংগঠনটি, যদিও এসব দাবির পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ মেলেনি। এদিকে শাস্তিমূলক বদলি ও দুর্নীতির সামগ্রিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ডিডি/ নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: