সিলেটে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের নিন্দা-সংহতি
সিলেটে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক শ্যামল সিলেটের ফটোসাংবাদিক রেজা রুবেল ও সিলেটভিউ২৪ ডটকমের স্টাফ রিপোর্টার নিবেন্দু তালুকদারের ওপর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জকিগঞ্জ প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এ ঘটনায় শনিবার সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ সমাবেশের প্রতিও সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করেছেন প্রেসক্লাবের নেতারা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে প্রেসক্লাবের দপ্তর ও পাঠাগার সম্পাদক ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদবার্তায় এ নিন্দা, প্রতিবাদ ও সংহতি জানানো হয়। এতে প্রেসক্লাবের সভাপতি এখলাছুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মুন্নাসহ নেতৃবৃন্দ বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালন এবং তথ্য জানার নাগরিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।
প্রতিবাদবার্তায় আরও নিন্দা জানান, সিনিয়র সহসভাপতি দৈনিক সমকাল ও যুগভেরী প্রতিনিধি শ্রীকান্ত পাল, সহসভাপতি দৈনিক মানবজমিন প্রতিনিধি রিপন আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দৈনিক সিলেটের মানচিত্র প্রতিনিধি মোর্শেদ আলম লস্কর, সহসাধারণ সম্পাদক দৈনিক সংগ্রাম প্রতিনিধি সীমান্ত তরফদার মাসুদ, কোষাধ্যক্ষ দৈনিক যায়যায়দিন প্রতিনিধি কেএম মামুন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দৈনিক সুরমা মেইল প্রতিনিধি ইউনুস আলী, দপ্তর ও পাঠাগার সম্পাদক দৈনিক সিলেট মিরর প্রতিনিধি ওমর ফারুক, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক জকিগঞ্জ আইটিভি প্রতিবেদক মাসুম খান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সিলেট এক্সপ্রেস প্রতিনিধি আবু বক্কর ফয়ছল, কার্যকরী সদস্য সাবেক সভাপতি কলামিস্ট এমএ মালেক চৌধুরী, সাবেক সভাপতি দৈনিক জনকণ্ঠ ও শ্যামল সিলেট প্রতিনিধি আবুল খায়ের চৌধুরী, দৈনিক কালের কন্ঠ ও সবুজ সিলেট প্রতিনিধি এম আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৈনিক নয়া দিগন্ত ও জাগ্রত সিলেটের প্রতিনিধি রহমত আলী হেলালি, দৈনিক যুগান্তর ও সিলেটের ডাক প্রতিনিধি আল হাছিব তাপাদার, অপূর্ব পাল, সাপ্তাহিক জকিগঞ্জ সংবাদ-এর নির্বাহী সম্পাদক ও কার্যকরী সদস্য আহমদুল হক চৌধুরী বেলাল এবং সদস্য এমএ ওয়াহিদ চৌধুরী, কয়েস আহমদ ও জাহাঙ্গীর সাহেদ।
উল্লেখ্য, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার শিকার হন দৈনিক শ্যামল সিলেটের ফটোসাংবাদিক রেজা রুবেল ও সিলেটভিউ২৪ ডটকমের স্টাফ রিপোর্টার নিবেন্দু তালুকদার। গত বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে হাসপাতালের পঞ্চম তলায় অপারেশন থিয়েটারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় দুই সাংবাদিক গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হন।
অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা না করেই ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার পাশাপাশি কর্মবিরতির কারণে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।
মোর্শেদ লস্কর / নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: