নদীভাঙ্গনে দোয়ারাবাজারে বিলীন হচ্ছে জনপদ
Led Bottom Ad

নদীভাঙ্গনে দোয়ারাবাজারে বিলীন হচ্ছে জনপদ

০৭/০৭/২০২৫ ১৪:৪৩:০৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

প্রতিদিন ভাঙছে নদী। ভাঙন খেলার শিকার উপজেলার একাধিক গ্রাম। প্রতিদিন নদী গ্রাস করছে এক একটি পরিবার। মুছে যেতে চলছে জনপদের চিহ্ন। এই অবস্থায় নির্বিকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। ফলে ভুক্তভোগীদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা, ক্ষোভ আর আশঙ্খা। নদী ভাঙন কবলের শিকা্র সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নবাসী। এই ইউনিয়নের খাসিয়ামারা নদীর ভাঙন এখন সর্বনাশ ঢেকে আনছে শত শত পরিবারের।


জানাগেছে খাসিয়ামারা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, পুকুর ও জনপদ। ভাঙনের তীব্রতায় এখন এলাকাবাসী আতঙ্কে দিন পার করছেন। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলের তোড়ে খাসিয়ামারা নদী তার দিক পরিবর্তন করে গ্রাস করছে গ্রামের পর গ্রাম।


সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় এবার ভাঙনের মাত্রা অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর, টেংরাটিলা, টিলাগাঁওসহ একাধিক গ্রাম ইতিমধ্যেই নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও বসতঘর নদীতে ধসে পড়ছে, কোথাও আবার পুকুর, বাগান, ফসলি জমি হারিয়ে গেছে নদীর গর্ভে।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙনের ফলে স্থানীয় একটি আলীপুর বাজার, নির্মানাধীন খাসিয়ামারা সেতু, আলীপুর নূরানী কিন্ডারগার্টেন, টেংরাটিলার আব্দুল করিম ও ব্যবসায়ী আব্দুর রহিমের বসতভিটা, পুকুর ও ফসলি জমি ইতোমধ্যে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ইতোমধ্যে আলীপুর গ্রামের কয়েকটি পরিবার বসতবাড়ি অন্যত্র স্থানান্তর করেছেন। তবে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় ভাঙন আতঙ্ক নিয়েই বসবাস করছেন সাধারণ মানুষ।


টেংরাটিলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, ‘আমার বসতবাড়ির অর্ধেকটাই নদীতে চলে গেছে। এইভাবে আর ক’দিন চললে আমাদের ঘরবাড়ি আর থাকবে না।’


একই গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, আমার ফসলি জমির অর্ধেকই খাসিয়ামারা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন অবশিষ্ট পুকুর ও বসতবাড়িটুকু বিলীন হওয়ার পথে।’


আলীপুর গ্রামের ভানু বিবি বলেন, ‘আমার জমিজমা, দোকানপাট ও বসতবাড়ি সব নদী গর্ভে চলে গেছে। গত ৫ বছরে অন্তত কয়েকবার বাড়ি স্থানান্তর করেছি। এখন আর স্থানান্তর করার মতো জমি টুকুও নাই। ভাঙন অব্যাহত থাকলে পরিবার পরিজন নিয়ে পথে নামতে হবে।’


একই গ্রামের মফিজ মিয়া বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে চাষ করা জমিটা চোখের সামনে নদীতে ভেঙে পড়ে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে কেউ এখনো এসে খোঁজও নেয়নি।’



সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ বলেন, ‘খাসিয়ামারা নদী এখন একটি ভয়ংকর বিপদে পরিণত হয়েছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে না তুললে অচিরেই পুরো জনপদ হুমকির মুখে পড়বে। ইতোমধ্যে বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি।’


পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দোয়ারাবাজারের এসও সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।’


দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ জানান, ‘ভাঙন কবলিত আলীপুর ও টেংরাটিলা এলাকা পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলবো।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad