সিলেটের ৪ টি সীমান্ত হাট ফের চালু করার উদ্যোগ: ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি
দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত হাট ফের চালুর উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন সিলেট বিভাগের দুই দেশের সীমান্ত সংলগ্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তবে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় মৌলভীবাজারের ২টি নতুন সীমান্ত হাট স্থাপনের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। দ্রুত এই জটিলতা নিরসন করে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও জুড়ীর সীমান্ত হাট দুটি চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের সিলেট জেলায় ১টি ও সুনামগঞ্জ জেলায় ৩টিসহ মোট ৪টি সীমান্ত হাট চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। জেলাগুলোতে অবস্থিত হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে— সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডলুরা সীমান্ত হাট, দোয়ারাবাজার উপজেলার বাগানবাড়ি সীমান্ত হাট, তাহিরপুর উপজেলার সায়দাবাদ বর্ডার হাট এবং সিলেট জেলার ভোলাগঞ্জ সীমান্ত হাট।
অন্যদিকে ২০১৭ সালের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমাঘাট এবং জুড়ী উপজেলার পশ্চিম বাটুলি সীমান্তে আরও দুটি বর্ডার হাট স্থাপনের সিদ্ধান্ত হলেও জমি জটিলতায় সেগুলোর নির্মাণকাজ থমকে আছে।
সম্প্রতি গত ২৪ আগস্ট ঢাকায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে স্থলবন্দর ও সীমান্ত হাটগুলো দ্রুত সচল করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এই বৈঠকের পর থেকেই সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে হাটগুলো চালুর নতুন আশা জেগেছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক উন্নয়ন ও সীমান্ত এলাকায় বৈধ বাণিজ্য নিশ্চিতে ২০১১ সালে সীমান্ত হাট কার্যক্রম শুরু হয়। সপ্তাহে একদিন শূন্য রেখায় দুই দেশের অনুমোদিত ব্যবসায়ীরা পণ্য বেচাকেনা করে থাকেন। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে স্থবিরতা তৈরি হলে সীমান্ত হাটের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি চন্দন সাহা বলেন, "সীমান্ত এলাকার প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং দুই দেশের মানুষে মানুষে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে বর্ডার হাটগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিলেটের বন্ধ থাকা হাটগুলো দ্রুত চালু করার পাশাপাশি নতুন প্রকল্পগুলোর জটিলতা নিরসন করা প্রয়োজন।"
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: