শ্রীমঙ্গলে বিসিক শিল্পনগরী আশা জাগাতে পারেনি উদ্যোক্তাদের

শ্রীমঙ্গলে বিসিক শিল্পনগরী আশা জাগাতে পারেনি উদ্যোক্তাদের

নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল

২৭/০৮/২০২৬ ১৯:০৮:০৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

অবকাঠামো, পিচঢালা পথ, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ আর প্রশাসনিক ভবন— একটি আধুনিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার প্রায় সব প্রস্তুতিই ছিল। কিন্তু উদ্বোধনের দীর্ঘ সাত বছর পরও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিসিক শিল্পনগরী কোনো আশা জাগাতে পারেনি।

সুযোগ-সুবিধার বার্তা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকা এবং স্থানীয় বাজারদরের চেয়ে প্লটের দাম বহুগুণ বেশি হওয়ায় উদ্যোক্তা টানতে ব্যর্থ হয়েছে এই প্রকল্প। ফলে শিল্পায়নের সম্ভাবনা এখন ঢেকে গেছে ঘন জঙ্গলে, পরিণত হয়েছে অপরাধী ও বিষধর সাপের অভয়ারণ্যে।

স্থানীয়দের কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র-কুটির শিল্প চাঙ্গা করতে ২০১২ সালে ২০ একর জমির ওপর এই শিল্পনগরীর পরিকল্পনা করা হয়। ২০১৬ সালে কাজ শুরু হয়ে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক কোয়ার্টার, পাম্প হাউস, গ্যাস সাবস্টেশন ও অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ শেষ হয়। তৈরি করা হয় ৩টি ক্যাটাগরিতে (এ, বি, এস) মোট ১২২টি প্লট। তবে প্রতি শতক জমির ইজারা মূল্য ৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করায় বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নেন, যা সংলগ্ন এলাকার স্বাভাবিক বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে ব্যবসায়ীরা ভেতরে না গিয়ে বাইরে কম খরচে জমি কিনে কারখানা স্থাপন করছেন।

১২২টি প্লটের মধ্যে ৬২টি বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে সচল হয়েছে মাত্র ১টি কারখানা। তবে সেখানেও রয়েছে অনিশ্চয়তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সচল কারখানা ‘আসাদ অ্যাগ্রো ফুড’-এর এক কর্মকর্তা জানান, শতভাগ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করা হয়নি। বাধ্য হয়ে তারা সীমিত পরিসরে কাজ চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত পরিষেবা না পেয়ে প্লট ফেরত দিতে গিয়ে প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে আছেন বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারী; ফেরত পাননি জামানতের টাকাও।

দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় পুরো এলাকাটি অপরাধীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি এস্টেটের ৭টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও গ্যাসের পাইপলাইনের কোটি টাকার যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। ফলে শিল্প এলাকাটি এখন পুরোপুরি বিদ্যুৎহীন ও অন্ধকার। অথচ এই বিশাল ২০ একর ভূখণ্ড পাহারা দেওয়ার জন্য রয়েছেন মাত্র ১ জন নৈশপ্রহরী। নৈশপ্রহরী বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, পুরো এলাকা জঙ্গলে ভরে গেছে। এত বড় জায়গা একজনের পক্ষে পাহারা দেওয়া অসম্ভব। ট্রান্সফরমার চুরির পর থেকে বিদ্যুৎ নেই, রাতে একাধিকবার ডাকাতদের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

সুবিশাল এই ২০ একর ভূখণ্ড পাহারা দেওয়ার জন্য রয়েছে মাত্র ১ জন নৈশপ্রহরী। নৈশপ্রহরী বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, পুরো জায়গাটা জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। এত বড় একটি এলাকা একজনের পক্ষে পাহারা দেওয়া অসম্ভব। ট্রান্সফর্মারগুলো চুরি হয়ে যাওয়ার পর থেকে বিদ্যুৎ নেই। রাতে একাধিকবার ডাকাতদের মুখোমুখি হয়েছি।

মৌলভীবাজারের তরুণ উদ্যোক্তা সামি আহমেদ বলেন, বাস্তবিক অর্থে মৌলভীবাজারে উদ্যোক্তার সংখ্যা এখানে কম। বিসিক পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে বা নতুন বিনিয়োগকারী আকর্ষণ করতে পারেনি। এখানে তুলনামূলক জায়গার দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই বাহিরে জমি ক্রয় করছেন।

​শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল মিয়া বলেন, বিসিকের এই অচলাবস্থা কাটাতে হলে জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সাধারণ বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবিলম্বে প্লটের দাম কমাতে হবে। চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার ও গ্যাস সরঞ্জাম দ্রুত প্রতিস্থাপন করে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত আনসার/নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ এবং নিয়মিত পুলিশ টহলের ব্যবস্থা করা জরুরি। যেসব বরাদ্দপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা জমি ফেলে রেখেছেন, তা উদ্ধার করে নতুন উদ্যোক্তাদের পুনঃ বরাদ্দ দেওয়া উচিত।

​শ্রীমঙ্গল বিসিক শিল্পনগরীর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোনায়েম ওয়ায়েছ সরঞ্জাম চুরির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং চুরি হওয়া মালামাল নতুন করে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ১২২টি প্লটের মধ্যে ৬২টি প্লট বিক্রি হয়েছে। ৬টি প্লটের কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে। এখানে মানুষ যত বৃদ্ধি পাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ততই জোরদার করা হবে। বাস্তবিক অর্থে এই অঞ্চলে উদ্যোক্তাদের সংখ্যা কম। যারা আছেন বেশিরভাগ বাহিরের। এই শিল্প নগরীর প্লট কেনার জন্য স্থানীয় উদ্যোক্তারা এগিয়ে আশা প্রয়োজন।

শাহিন আহমেদ/ নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad