সিলেটে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাবেক ছাত্রনেতা পপলুকে ঘিরে প্রাক্তনদের আড্ডা
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, নব্বইয়ের দশকের উত্তাল ছাত্র রাজনীতির দিনগুলো এবং নিখাদ ভ্রাতৃত্বের স্মৃতি রোমন্থনে সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক আবেগঘন আড্ডা। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সাবেক সভাপতি ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাবেক ছাত্রনেতা ইফতেখারুল হক পপলুর সপরিবারে এক সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে গতকাল ১৬ আগস্ট (রোববার) রাত ৮টায় সিলেটের পূর্ব-জিন্দাবাজারের নেহার মার্কেটে এই জমজমাট মিলনমেলার আয়োজন করা হয়।
ইফতেখারুল হক পপলুকে কেন্দ্রে করে আয়োজিত এই অনানুষ্ঠানিক আড্ডায় সিলেট অঞ্চলের প্রাক্তন ও বর্তমান প্রগতিশীল ছাত্র নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। দীর্ঘদিন পর প্রিয় সহযোদ্ধাকে কাছে পেয়ে সহকর্মী ও প্রবীণ নেতারা আনন্দ প্রকাশ করেন এবং কুশল বিনিময় ও স্মৃতিতর্পণে মেতে ওঠেন।
স্মৃতিচারণ পর্বে অংশগ্রহণ করেন—বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন,বাংলাদেশ ছাত্র সমিতির সাবেক সভাপতি সাংবাদিক দেবব্রত রায় দিপন,ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সাবেক সভাপতি ও কর আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান শিপু,ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নিরঞ্জন দাশ খোকন,গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি সিলেটের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মনির উদ্দিন,ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যাংকার আহমদুর রশীদ চৌধুরী রিপন,ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট মহানগর সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস কে শাকিল,সাবেক ছাত্রনেতা ব্যাংকার রাজিব নাইডু,সাবেক জেলা সভাপতি ও বর্তমান যুব ইউনিয়ন জেলা সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান,সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যমুনা টিভির সিলেট প্রতিনিধি নাবিল হোসেন,ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় নেতা মনীষা ওয়াহিদ,সিলেট জেলা সভাপতি মাশরুর জলিল এবং সিলেট জেলা সভাপতি অভ্রবেদী সন্দ্বীপ।
স্মৃতিচারণায় বক্তারা গত শতকের নব্বই দশকের উত্তাল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, তৎকালীন সময়ে তীব্র আর্থিক সংকট ও নানান প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রগতিশীল ছাত্রনেতারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে আপসহীন ছিলেন। কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার না হয়ে তারা যেমন ছাত্র অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন, তেমনই জাতীয় ও স্থানীয় সংকটকালে, বন্যা-দুর্যোগে এবং দেশের সম্পদ পাচার রোধে জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় বিলিয়ে দিয়েছেন।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতির পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর যে অমলিন সংস্কৃতি তখন গড়ে উঠেছিল, তার ফলেই আজ দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকলেও তাদের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ব ও যোগাযোগ এতটুকু ফিকে হয়নি। এই সুদৃঢ় বন্ধন কেবল প্রগতিশীল রাজনৈতিক চর্চার ফলেই সম্ভব হয়েছে।
অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু, সিলেট অঞ্চলের এক সময়ের তুখোড় ও জনপ্রিয় ছাত্রনেতা ইফতেখারুল হক পপলু তাঁর আবেগঘন বক্তব্যে স্মৃতিচারণ করে জানান, ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী হিসেবে কুলাউড়া কলেজ ও অঞ্চলে তাঁর আন্দোলন-সংগ্রামের সূচনা। পরবর্তীতে সিলেট ল’ কলেজে ভর্তি হয়ে সিলেট জেলার বিভিন্ন ইউনিট ও শাখায় নিরবচ্ছিন্নভাবে সংগঠনকে শক্তিশালী করেন। দক্ষতার ধারাবাহিকতায় তিনি জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সিলেট জেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্ব দেন। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও দেশমাতৃকার টানে প্রগতিশীল সংগঠনের সঙ্গেই যুক্ত রয়েছেন। শ্রমিক ও শোষিত মানুষের পক্ষে সাম্যবাদী আদর্শের প্রতি তাঁর অটল নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের কথা তাঁর বক্তব্যে আবারও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আড্ডার প্রথম পর্ব সমাপ্ত হয় ‘সময়পাঠ’ সম্পাদক সৈয়দ মনির হেলালের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। এরপর সাবেক ছাত্রনেতা পপলুর হাতে সৌজন্য উপহার হিসেবে পুস্তক তুলে দেন ব্যাংকার আহমদুর রশীদ চৌধুরী রিপন। ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সভাপতি অভ্রবেদী সন্দ্বীপের নেতৃত্বে বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ তাকে একগুচ্ছ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। সর্বশেষে এক নৈশভোজের মাধ্যমে আনন্দঘন এই আড্ডার সমাপ্তি ঘটে।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: