সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: তদন্ত সন্তোষজনক না হলে সিআইডিতে হস্তান্তরের হুঁশিয়ারি
সিলেট নগরীর রায়নগরে ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (১৫) এই চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহত দম্পতির প্রবাসী সন্তানরা। একইসঙ্গে চলমান পুলিশি তদন্ত সন্তোষজনক না হলে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তরের আবেদনেরও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর আজ সোমবার (১৭ আগষ্ট) সকালে রায়নগরের দুর্ঘটনাস্থল ‘মিতালী ১১১’ নম্বর বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্বজনরা এই অবস্থান তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে দম্পতির পুত্র আরিফ ইফতেখার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় নিহতের তিন মেয়ে তাহমিনা, সেলিনা ও তারানাও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সকালে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তারের বাসা থেকে সাত্তার, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের অপ্রাপ্তবয়স্ক গৃহপরিচারিকার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই ঐ দিন বেলা ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার কলোনি বাসিন্দা বাবুল মিয়াকে (৪০) আটক করে পুলিশ।
পরে পুলিশ দাবি করে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে ‘প্রেমের সম্পর্কের জেরে’ই একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা করেন বাবুল। গত বৃহস্পতিবার বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারের দাবিও করে পুলিশ। গতকাল রোববার বাবুলকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
তবে ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশের এই ‘প্রেমঘটিত’ ব্যাখ্যার দাবি তীব্রভাবে অস্বীকার করে আসছেন নিহত দম্পতির সন্তানরা। তাঁদের মতে, মূল ঘটনাকে আড়াল করতেই এমন গল্প হাজির করা হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর শুক্রবার (১৪ আগষ্ট) রাতে দম্পতির প্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরেই প্রভাবশালী একটি চক্র ভাড়াটে খুনি দিয়ে এই তিনজনকে নির্মমভাবে হত্যা করিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরিফ ইফতেখার বলেন,এই মামলায় যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন, আবার প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকৃত অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই পার পেয়ে না যায়। আমরা চাই মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। পুলিশের তদন্তে অসচ্ছতা বা অসন্তোষ দেখা দিলে আমরা মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তরের আবেদন জানাব।
মানসিক বিপর্যয়ের কথা উল্লেখ করে দম্পতির সন্তানরা সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সরাসরি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। তবে তাঁরা আশা প্রকাশ করে বলেন, সত্য কখনো চাপা থাকে না, একসময় তা প্রকাশিত হবেই।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত তিনজনের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়। পাশাপাশি নিহত আব্দুস সাত্তার, সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনার লাশ বা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে বিনীত অনুরোধ জানান পরিবারের সদস্যরা।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: