জৈন্তাপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন, দুই মৎস্যচাষী পেলেন সম্মাননা

জৈন্তাপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন, দুই মৎস্যচাষী পেলেন সম্মাননা

নিজস্ব প্রতিনিধি, জৈন্তাপুর

১৬/০৮/২০২৬ ১৪:২৯:০৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

“রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেটের জৈন্তাপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য সড়ক র‍্যালির মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়। এরপর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়। সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদার, মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আজিজুল হক খোকন, সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ঝুটন চন্দ্র সরকার এবং জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সারওয়ার বিলাল।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিয়াম ডাঃ কুদরত উল্লাহ স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু সুফিয়ান বিলাল।

আলোচনা সভায় স্থানীয় মৎস্যচাষীদের মধ্যে বক্তব্য দেন আব্দুস শুক্কুর (নেতা শুক্কুর), মঈন উদ্দিন, নজরুল ইসলাম ও শফিকুর রহমান (আর্মি শফিক)। তারা মৎস্যচাষের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে মৎস্যচাষের ঘাট ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়া, খাসজমি দখল এবং মৎস্য ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের দাবি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায় বলেন, উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্ব হচ্ছে প্রত্যেকটি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিভিন্ন সমস্যা ও চাহিদা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা। মৎস্যচাষীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

খাল পুনঃখননের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো খাল খননের জন্য তালিকা প্রণয়ন, প্রকল্প তৈরি ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। জৈন্তাপুর উপজেলা থেকে এ ধরনের তালিকা পাঠানো হয়েছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি খাসজমি দখলের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রকৃত অবস্থা যাচাইয়েরও আশ্বাস দেন।

মৎস্যচাষীদের কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের দাবির বিষয়ে ইউএনও বলেন, উপজেলায় কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য একটি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের বিষয়টি ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। মৎস্যচাষ ও কৃষিপণ্যের সম্ভাবনাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণে কোল্ড স্টোরেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মৎস্যখাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মো. সেলিম আহমদ ও মো. আব্দুস শুক্কুরকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন, জৈন্তাপুরে মৎস্যচাষের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, জলাশয় সংরক্ষণ ও সহজ বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে এ খাত স্থানীয় অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সাইফুল ইসলাম বাবু

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad