সিলেটের আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলায় গ্রেপ্তার বাবুল ৪ দিনের রিমান্ডে
সিলেট নগরের রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকায় একই পরিবারের বৃদ্ধ দম্পতি ও গৃহকর্মীসহ তিনজনকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়াকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আজ রোববার (১৬ আগস্ট) অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে বিচারক ফারহানা সুলতানা চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোবহানীঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ শিপলু চৌধুরী।
গত ১২ আগস্ট সকালে মিতালী এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম (১৫)-এর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই আটক করা হয় বাবুল মিয়াকে (৪০)। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পার্শ্ববর্তী একটি খালি প্লট থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি ও ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল স্বীকার করেছে যে গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ছিল। তাহমিনার 'খারাপ আচরণে' ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নিতেই সে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে। প্রথমে তাহমিনাকে হত্যা করার পর বাধা দিতে এলে ধারাবাহিকভাবে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও শেষে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকে গলা কেটে হত্যা করে সে। এরপর ভেতরের বেসিনে হাত ও রক্তমাখা ছুরি ধুয়ে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায়।
তবে পুলিশের এই প্রেম বা বিরোধজনিত একার স্বতঃস্ফূর্ত হত্যাকাণ্ডের দাবি শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। নিহত দম্পতির মেয়ে ও মামলার বাদী সেলিনা সুলতানা এবং নিহত গৃহকর্মীর বাবা দুজনই দাবি করেছেন, গৃহকর্মীর সঙ্গে বাবুলের কোনো সম্পর্কের ভিত্তি ছিল না। তদন্তকে ভিন্ন খাতে মোড় ঘুরাতেই এই নাটকীয় গল্প সাজানো হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
বাদীর মতে, আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলা জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে কোনো প্রভাবশালী চক্র। তাছাড়া একা এক ব্যক্তির পক্ষে একই সময়ে তিনজনকে নৃসংভাবে হত্যা করা বাস্তবসম্মত নয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার পর বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব তছনছ অবস্থায় পাওয়া গেছে। মূল্যবান জিনিসপত্র বা গুরুত্বপূর্ণ নথি খোয়া গেছে কি না—তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই সাথে তিনজনের মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো সিলেট নগরজুড়ে শোক ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনায় অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা উদঘাটনে গভীর ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নীরব চাকলাদার/ ডিডি
মন্তব্য করুন: