ধর্মপাশায় সরকারি ভবনে নিম্নমানের মালামাল: নেপথ্যে ঠিকাদারের রাজনৈতিক প্রভাব

ধর্মপাশায় সরকারি ভবনে নিম্নমানের মালামাল: নেপথ্যে ঠিকাদারের রাজনৈতিক প্রভাব

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২০/০৮/২০২৬ ২১:২০:৩৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সরকারি অর্থের শত কোটি টাকা জলে ফেলে হাজারো শিক্ষার্থীর জীবন ঝুঁকিতে ফেলার চক্রান্ত চলছে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজে। নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের নামে বাস্তবায়িত হচ্ছে চরম জালিয়াতি ও অনিয়মের মহোৎসব। এলসি বা বোল্ডার পাথরের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ, শক্তিহীন পুরোনো সিমেন্ট ব্লক। সিলেকশন বালুর জায়গায় দেয়াল নির্মাণ, আস্তরণ (প্লাস্টার) এবং ফ্লোর ঢালাইয়ে চালানো হচ্ছে সরাসরি কাঁদাযুক্ত ভিটি বালু ও মাটি। ইট ভাঙা গুঁড়োকে পাথর হিসেবে চালিয়ে দেওয়া এবং ৩ নম্বর ইটের ব্যবহারের মাধ্যমে পুরো কাঠামোটিকেই দাঁড় করানো হচ্ছে এক মৃত্যুকূপে।

নির্মাণকাজের শুরু থেকেই এই বেপরোয়া দুর্নীতি দেখে ক্ষোভে ফুসছে ধর্মপাশার আক্তাপাড়াসহ আশপাশের সর্বস্তরের মানুষ। কাজের মান সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম নূরী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি উন্নয়ন নয়, এটি সরকারি ভবনের নামে এক জঘন্য প্রতারণা। বালু, পাথর ও ইট সব কিছুতেই ব্যবহার করা হচ্ছে বর্জ্য মালামাল। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতে গেলে পাত্তাই দেওয়া হয় না। এভাবে নিম্নমানের ইট মাটি দিয়ে ভবন তুললে তা উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়তে পারে। হাজারো শিক্ষার্থীর জীবনের সুরক্ষার তোয়াক্কা না করে সরকারি টাকা হরিলুট করা হচ্ছে।

অনিয়ম আড়াল করতে জালিয়াতির অভিনব ছক এঁকেছে ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা। কলেজের অধ্যক্ষ কৃষ্ণ কান্ত দাশকে কোনো স্থাপত্য নকশা (লে-আউট) বা স্পেসিফিকেশন না দেখিয়ে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। অধ্যক্ষ জানান, উপজেলা প্রকৌশলী খাজা মাঈন উদ্দিন ও শিক্ষা প্রকৌশলীরা যা বলতেন, তাঁকেই তা মানতে হতো।

​অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী খাজা মাঈন উদ্দিন ও সুনামগঞ্জ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (৩) সৈয়দ তারেক জহিরুল হক কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো নিম্নমানের সামগ্রীর পক্ষে অদ্ভুত সাফাই গাইতে শুরু করেন। প্রকৌশলী খাজা মাঈন উদ্দিনের দাবি বিট বালু ব্যবহার করলে নাকি দেয়াল বেশি সাদা ও উন্নত হয়। অনিয়ম ঢাকতে কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের এই পারস্পরিক আঁতাত প্রমাণ করে, দুর্নীতির শিকড় কতটা গভীরে।

অনুসন্ধানী তথ্য উঠে আসার পর সংশ্লিষ্টদের আচরণ ছিল অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ। অভিযুক্ত ঠিকাদার মো: মাঈন উদ্দিন প্রকাশ্যেই ক্ষমতার আস্ফালন দেখিয়ে বলেন, তাঁর কাজে রাজনৈতিক বড় বড় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অংশীদারত্ব রয়েছে এবং জেলা শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তর তাঁর ইশারায় চলে। গণমাধ্যম বা স্থানীয় প্রশাসনের তোয়াক্কা না করে তিনি দাবি করেন, এ ধরনের অনিয়মের খবরে তাঁর কিছুই হবে না।

যেখানে শিক্ষার পরিবেশ সুরক্ষিত থাকার কথা, সেখানে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে। ধর্মপাশার সচেতন জনগণ ও অভিভাবকমহল অবিলম্বে এই ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন।

​অভিযুক্ত ঠিকাদার মো: মাঈন উদ্দিনের লাইসেন্স বাতিল, তাঁর সমস্ত চলমান প্রকল্পের বিডি ও বিল স্থগিত এবং এই দুর্নীতির সাথে সরাসরি জড়িত উপজেলা প্রকৌশলী খাজা মাঈন উদ্দিন ও জেলা সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ তারেক জহিরুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় তদন্তপূর্বক কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান প্রকৌশলী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আশু জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন ধর্মপাশাবাসী।

প্রীতম দাস/ আর আর

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad