হেফজাতে ইসলামের মিথ্যাচার ও উসকানির প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন
হেফজাতে ইসলামের মিথ্যাচার, ফতোয়াবাজি ও উসকানিমূলক হুমকির প্রতিবাদ এবং সংগঠনের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সুনামগঞ্জ জেলা হেযবুত তওহীদ। ১৯ আগস্ট (বুধবার) বেলা ১১টায় সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি মোহাম্মদ জাকির হোসেন।লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১ আগস্ট নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ থেকে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে। ওই সমাবেশে সংগঠনের ইমাম ও সদস্যদের বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক এবং উগ্র বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া ও জীবন্ত দাফন করার মতো নজিরবিহীন হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নারীদের উদ্দেশ্য করেও অবমাননাকর ও অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রশাসনের নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি লঙ্ঘন করে এই সমাবেশ করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি গত ৯ আগস্ট চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলামের পেশকৃত ৯ দফা দাবিপত্রের ৬ নম্বর দফাতেও হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার অন্যায্য দাবি উত্থাপন করা হয়।
বক্তারা উল্লেখ করেন, হেযবুত তওহীদ গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ আইন ও সংবিধানসম্মত উপায়ে শান্তিপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। উগ্রবাদের ইন্ধনে অতীতে ২০০১, ২০০৩, ২০০৯ ও ২০১৬ সালে নোয়াখালীর পোরকরা গ্রামে হেযবুত তওহীদের ইমামের বাড়িতে একাধিকবার পৈশাচিক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়, যেখানে প্রকাশ্য দিবালোকে তাঁদের নিরপরাধ সদস্যদের হত্যা করা হয়েছিল। বর্তমানে এই উগ্র অপতৎপরতার কারণে সারা দেশে তাঁদের হাজার হাজার সদস্য চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এবং হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে পরিচালিত স্কুল, হাসপাতাল, খামার ও পোশাক কারখানাসহ অর্ধশতাধিক গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্প হুমকির মুখে পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, উসকানি, প্রকাশ্য হুমকি ও ফতোয়া প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ। লিফলেট বিতরণ ও সামাজিক-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে উসকানিমূলক অপপ্রচার অবিলম্বে বন্ধ করা।দেশজুড়ে সদস্যদের জানমাল, বসতবাড়ি ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।সাংবিধানিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ৩৮, ৩৯ ও ৪১) অনুযায়ী সংগঠন গঠন, মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় চর্চার স্বাধীন পরিবেশ বজায় রাখা। গণমাধ্যমে তথ্য যাচাই-বাছাইপূর্বক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন, তাহিরপুর ইউনিট আমির সুলতান মাহমুদ, হালুয়ারঘাট ইউনিট আমির মারফত আলী, সদস্য তাসাদ্দুক রাজা ইমন, রহিস মিয়া, আব্দুল নূর, রুহুল আমিন, আব্দুল হামিদসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক প্রতিনিধিবৃন্দ।
প্রীতম দাস/ ডিডি
মন্তব্য করুন: