গোলাপগঞ্জে প্রবাসী শরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
সিলেটের গোলাপগঞ্জে ‘লেকভিউ গার্ডেন সিটি এগ্রো রিসোর্ট লিমিটেড’ প্রকল্পের উদ্যোক্তা ও প্রবাসী মো. শরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা, চাঁদা দাবি ও অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকল্প পরিচালনায় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শরীফ উদ্দিন এসব অভিযোগ করেন।
শরীফ উদ্দিন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপে বসবাস করছেন। ২০০৮ সালে দেশে এসে এগ্রো ও ট্যুরিজম খাতে কাজ করছেন। করোনা মহামারির পর ২০২১ সালে ধারাবহর মৌজায় হাফিজ আল মাহমুদ গংদের কাছ থেকে তিনি বেশ কিছু জমি ক্রয় করেন। জমি বুঝিয়ে দেওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরে আত্মীয়স্বজনদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, পরবর্তীতে ওই এলাকার আশপাশে আরও জমি ক্রয় করে এগ্রো-ট্যুরিজম প্রকল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। এ লক্ষ্যে ‘লেকভিউ গার্ডেন সিটি এগ্রো রিসোর্ট লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানি নিবন্ধন করেন। স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গোলাপগঞ্জের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশে প্রায় ২০-৩০ জন শ্রমিক নিয়ে প্রকল্পের উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করেন।
শরীফ উদ্দিনের অভিযোগ, প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করার পর থেকেই একটি মহল বিভিন্ন সময়ে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করা হয়।
শরীফ উদ্দিন জানান, ২০২৫ সালের ৩ জুন তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। ওই সময় তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে দেশে এসে আদালতে হাজির হয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করলে আদালত তাকে স্থায়ী জামিন দেন বলে দাবি করেন।
এরপর ২০২৬ সালের ৮ জুন হাফিজ আল মাহমুদ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে আরেকটি চাঁদাবাজির মামলা করেন বলে জানান শরীফ উদ্দিন। তার দাবি, মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।
সর্বশেষ চলতি মাসের ১৩ আগস্ট তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি। এর আগের রাতে একটি স্থানে মাটি কাটার অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। শরীফ উদ্দিন দাবি করেন, ওই জায়গা ও মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত গাড়ি কোনোটিই তার নয়। তারপরও তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
এদিকে সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে তার প্রকল্পের পাশের একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শরীফ উদ্দিন অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার পরও একটি মহল তার কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দিলে তাকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর বিভিন্ন নামে-বেনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ ও আইডি থেকে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘‘আমি চাই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাসহ আমার বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। কেউ আগুন লাগিয়ে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘বর্তমান সমাজ যুবকদের মাদক যেভাবে আর্কিষ্ট করছে। এই যুব সমাজকে বাঁচাতে ও তাদের কর্মসংস্থানের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমার প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গোলাপগঞ্জের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং এ অঞ্চলের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নেওয়া। কিন্তু বিনিয়োগের পথে এভাবে বাধা ও হয়রানি করা হলে ভবিষ্যতে প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেন।’’
সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি প্রকল্পের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা এবং বিনিয়োগের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: