‘বাসযোগ্য নগরী গড়তে আমরা জলাশয় উদ্ধারে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছি’

ঘাসিবিল পুনরুদ্ধার কাজ পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক

‘বাসযোগ্য নগরী গড়তে আমরা জলাশয় উদ্ধারে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছি’

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১৯/০৮/২০২৬ ১৯:০৬:০৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাসিবিল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। কয়েকদিন আগে শুরু হওয়া জলাশয়টির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করে তিনি কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অবশিষ্ট ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানা সম্পূর্ণ অপসারণের নির্দেশ দেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) পুনরায় এক বিল পরিদর্শন শেষে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “বাসযোগ্য নগরী গড়তে আমরা জলাশয় উদ্ধারে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা খোজারখলা পুকুর পুনরুদ্ধার করেছি। ঘাসিবিলের পুনরুদ্ধার কাজ চলছে। একসময় এই জলাশয়টি অনেক বড় ছিল। নাম ছিল ঘাসি বিল। চারদিকে অট্টালিকা নির্মাণের কারণে জায়গাটি সংকুচিত হয়ে বর্তমানে অনেকটা পুকুরের আকার ধারণ করেছে। নগরীর পুকুর ও জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধারে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। এর অংশ হিসেবে ঘাসিবিল পুনরুদ্ধার কাজ শুরু চলছে।”

তিনি বলেন, “প্রায় ১৫ দিন আগে এখানে বিপুল পরিমাণ আবর্জনা ও কচুরিপানা ছিল। দেখে মনে হয়েছে, এটি মশা-মাছির প্রজননস্থল। সিসিকের কর্মীরা কঠোর পরিশ্রম করে ইতোমধ্যে অনেকটা পরিষ্কার করেছেন। তবে পুরো জায়গাটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার করতে হবে। এরপর পুকুরটি খনন করে আরও সুন্দর করে তোলা হবে।”

জলাশয়টির চারপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সিসিক প্রশাসক বলেন, “আমার পরিকল্পনা ছিল জলাশয়ের চারপাশে একটি ওয়াকওয়ে নির্মাণ করার। তবে পরিবেশ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, শীত মৌসুমে এখানে অতিথি পাখিরা আসে এবং জায়গাটি তাদের অভয়াশ্রম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হলে অতিথি পাখিদের আগমন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে।”

তিনি বলেন, “জলাশয়টি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ফলে মশার উপদ্রবও কমবে। তাই পুরো জায়গাটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি শুধু নগর পরিচ্ছন্নতার কাজ নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেও সিসিকের কর্মীরা কাজ করছেন।”

ঘাসিটুলা লামাপাড়া মসজিদের উন্নয়ন কাজ উদ্বোধন: এর আগে সিসিক প্রশাসক ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাসিটুলা লামাপাড়া মসজিদ পরিদর্শন করেন। এ সময় মসজিদের সামনে খালি জায়গায় নামাজের স্থান নির্মাণের জন্য আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ উদ্বোধন করেন তিনি।

এ সময় আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “প্রায় দেড় মাস আগে আমি এখানে এসে মসজিদের সামনের খালি জায়গায় আরসিসি ঢালাই দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলাম। দেড় মাসের মধ্যেই সেই কাজ শুরু হয়েছে। আজ আমরা ঢালাইয়ের কাজ উদ্বোধন করলাম। এই কাজ সম্পন্ন হলে আরও অনেক বেশি মুসল্লি স্বাচ্ছন্দ্যে এখানে নামাজ আদায় করতে পারবেন।”

তিনি বলেন, “এই উন্নয়নকাজের প্রতিটি পাথর, সিমেন্ট ও বালু জনগণের টাকায় কেনা। মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ জনগণের দেওয়া ট্যাক্সের অর্থেই করা হচ্ছে। তাই এসব কাজের সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও আমাদের সবার।”

ঘাসিটুলা এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করায় এলাকাবাসী সিসিক প্রশাসককে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় সিসিক প্রশাসক নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এলাকাবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সময় মসজিদের মোতাওয়াল্লি সাইদুর রহমান, সিসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল হক পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, মো. জিলাল উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম, মো. আব্দুল মতিন, মো. রিয়াজ উদ্দিন, মো. মোস্তফা কামাল, সিসিকের সহকারী প্রকৌশলী অংশুমান ভট্টাচার্য, আকরামুল হামিদ সুপন, আজির উদ্দিনসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


ডিডি/ নীরব

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad