ছাতকে সরকারি রাস্তা দখল করে বসতঘর নির্মাণের অভিযোগ
ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে সরকারি রাস্তা ও ড্রেনের জায়গা দখল করে বসতঘর নির্মাণ এবং রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে। তবে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। তাদের দাবি, তারা নিজেদের মালিকানাধীন জায়গাতেই ঘর নির্মাণ করছেন।
এ ঘটনায় হামলা ও অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা জানিয়ে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন জালালপুর গ্রামের হাজী রজব আলীর ছেলে মো. আফতাব উদ্দিন। গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার তিনি একই গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে সুনুর উদ্দিন ও মনির উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগটি দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আফতাব উদ্দিনের বসতবাড়ির পূর্ব পাশে একটি রাস্তা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি চলাচলসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে আসছেন।
আফতাব উদ্দিনের অভিযোগ, রাস্তার পাশের কিছু জায়গা দখল করে অভিযুক্তরা নতুন করে পাকা ঘরসহ বিভিন্ন নির্মাণকাজ করছেন। সরকারি রাস্তা ও ড্রেনসহ প্রায় ১০ ফুট জায়গার মধ্যে প্রায় ৩ ফুট সরকারি জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্মাণাধীন সানসেটও রাস্তার প্রায় ৩ ফুট ভেতরে নির্মাণ করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পর ছাতক থানার এসআই আব্দুল জলিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় তিনি সরকারি রাস্তার জায়গায় কোনো ধরনের নির্মাণকাজ না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেন।
অভিযোগকারী মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, “প্রতিপক্ষের সঙ্গে আমার কোনো পূর্ববিরোধ নেই। তারাও আমার নিকটাত্মীয়। স্কুলশিক্ষার্থী ও মহল্লাবাসীর চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি যাতে কোনো ব্যক্তি দখল করতে না পারেন, সেই জনস্বার্থেই আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। এতে তারা আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন।”
তিনি আরও বলেন, “জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা দখলমুক্ত রাখা এবং রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণ বন্ধের দাবিতেই থানায় অভিযোগ করেছি। বিষয়টি নিয়ে যাতে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। স্থানীয় মুরুব্বিরাও একাধিকবার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছেন, তবে এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এদিকে, ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার সংবাদকর্মীরা সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে ঘর নির্মাণের কাজ চলমান দেখা যায়। তবে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তদের একজন মনির উদ্দিন।
মনির উদ্দিন বলেন, “ঘর নির্মাণ করছে আমার ছোট ভাই সেতু। সে আমাদের নিজস্ব ভূমিতে কাজ করছে। অযথা আমাকেও অভিযোগে দায়ী করা হয়েছে। আমরা কোনো সরকারি জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ করছি না। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।”
তিনি বলেন, “চলমান বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আমাদের উভয় পক্ষের নিকটাত্মীয় ফয়জুর রহমান ফয়েজ মধ্যস্থতা করছেন। গ্রামের মুরুব্বিরাও বিষয়টি অবগত রয়েছেন।
মনির উদ্দিনের দাবি, গ্রামের মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য তারা নিজেদের জায়গা লিখিতভাবে রাস্তার জন্য দিয়েছেন। তাই রাস্তা দখলের প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, “আমি আমার মালিকানাধীন ভূমিতেই ঘর নির্মাণ করছি। উপরের সানসেটও আমার সীমানার মধ্যেই থাকবে, রাস্তার ওপর যাবে না।”
রাস্তার ওপর থাকা কুটি বা নির্মাণের কোনো অংশ সরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটি আমাদের ভূমির সীমানার মধ্যে ছিল। রাস্তার কাজ শুরু হলে রাস্তার স্বার্থে সেটি তুলে নিতে আমার কোনো আপত্তি থাকবে না।” এ সময় গ্রামের প্রবীণ মুরুব্বি হাজী রইছ আলী ও ছমরু মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
উভয় পক্ষের আত্মীয় ও মধ্যস্থতাকারী ফয়জুর রহমান ফয়েজের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “উভয় পক্ষই আমার আত্মীয়। তাই আমি নিজ উদ্যোগে মহল্লার মুরুব্বিদের সঙ্গে নিয়ে তাদের কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলায় না জড়ানোর জন্য বলেছি। জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার জায়গা দখল না করে ঘর নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “যেহেতু বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ হয়েছে, তাই গ্রামের মুরুব্বিয়ান ও প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাস্তাটি এলাকার মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্কুলশিক্ষার্থীরা নিয়মিত এ রাস্তা ব্যবহার করায় রাস্তার জায়গা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে ভবিষ্যতে চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
তবে রাস্তার জায়গা ও নির্মাণাধীন স্থাপনা প্রকৃতপক্ষে সরকারি নাকি ব্যক্তিমালিকানাধীন—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড ও সরকারি মাপজোকের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সুজন তালুকদার / ডিডি
মন্তব্য করুন: