শাহজালাল (র.) মাজার প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা
ভাইরাল বাণিজ্যের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি’
সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) মাজার প্রাঙ্গণে উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বিশৃঙ্খলার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,শনিবার মাজার প্রাঙ্গণে কোনো এক বিষয়কে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে যান সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় মইনুল ইসলাম আশরাফী, ফয়সাল আহমেদ ও এহসানুল তাহেরসহ কয়েকজন ব্যক্তি প্রশাসকের আশপাশে ধাক্কাধাক্কি করে এবং বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করে।
ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য ও অভিযোগ উঠে এসেছে:
এহসানুল তাহের: তার আয়ের নির্দিষ্ট কোনো প্রত্যক্ষ উৎস না থাকলেও বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। আন্দোলন বা সামাজিক ইস্যুতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা গেলেও, বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গকে অর্থায়নের মাধ্যমে আলোচনায় থাকার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মইনুল ইসলাম আশরাফী: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন স্থানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে তিনি সক্রিয়। অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ নির্ভর কার্যক্রমের মাধ্যমে বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তিনি বিভিন্ন ইস্যুতে অবস্থান নেন।
ফয়সাল আহমেদ: তার পরিচালনায় নাম-বেনামে অর্ধশতাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ পরিচালিত হয় বলে জানা গেছে। আন্দোলন প্রচারণা কিংবা সংবাদের কাজে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ফাহিম আল চৌধুরীকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার চেষ্টা করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
আব্দুল বাসিত রিমন: বিভিন্ন কর্মসূচিতে অনুসারীদের নিয়ে নির্দিষ্ট সম্মানির বিনিময়ে অংশগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে 'রিমন গ্রুপ' নামে পরিচিত এই বলয়ের বিরুদ্ধে।
সিলেটি মাসুক: নামভিত্তিক এই ব্যক্তি দৈনিক সম্মানির বিনিময়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণীর সুবিধাবাদী গোষ্ঠী অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থনৈতিক সুবিধা গ্রহণের পাঁয়তারা করছে। জনস্বার্থে এ ধরনের কথিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের পরিচয় ও তাদের অর্থনৈতিক লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: