ব্যবসায়ীর অস্বীকার
শ্রীমঙ্গলে ‘ফ্যামিলি বাজার’ দোকানে মৃত মুরগি বিক্রির অভিযোগ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার নতুন বাজারের ‘ফ্যামিলি বাজার’ দোকানে মৃত মুরগি বিক্রি এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরিমানাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্যকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করেছেন দোকান মালিক।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মাসুমুর রশিদ মাসুম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রায় ২৫ বছর ধরে ব্যবসায়ে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে মাসুমুর রশিদ মাসুম বলেন, ‘নতুন বাজারে তার মালিকানাধীন ‘ফ্যামিলি বাজার’ প্রতিষ্ঠানে ব্রয়লার, কক, ডিম ও প্রক্রিয়াজাত মাংস বিক্রি করা হয়। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষণ্ণ করতে কিছু ব্যবসায়ী প্রতিদ্বন্ধী অপপ্রচার চালাচ্ছ।’
মাসুমুর রশিদ মাসুম বলেন, ‘গত ২১ জুন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে কোনো বিষয়বস্তু উল্লেখ না করে তাকে কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশের পর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গেলে সেখানে রোমানা আক্তার শিপা নামের এক নারীর ধারণ করা ভিডিও দেখানো হয়।’
মাসুমুর রশিদের দাবি, ভিডিওতে দিনের বেলায় ওই নারী তাদের প্রতিষ্ঠানে এসে কর্মচারীদের কাছে মৃত মুরগি আছে কি না জানতে চায় এবং ১২০ টাকায় তিনটি মৃত মুরগি কেনার প্রস্তাব দেয়।
এরপর গত ১৩ আগস্ট মৌলভীবাজার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মৃত মুরগি বিক্রির অভিযোগে ফ্যামেলি বাজারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে। দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি জরিমানার টাকা পরিশোধ করেছেন। একইসঙ্গে ব্যবসায়ী পক্ষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন সংগৃহীত মৃত মুরগি কোনো অসাধু ব্যক্তি হোটেল বা রেস্তোরাঁয় বিক্রি করতে না পারে।
তবে তার অভিযোগ, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগকারী হিসেবে উল্লেখ করা রোমানা আক্তার শিপাসহ কয়েকজন তার বক্তব্য না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একতরফাভাবে তার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন।
মাসুমুর রশিদ আরও অভিযোগ করেন, অভিযোগকারী রোমানা আক্তার শিপা পূর্বে দোকানে এসে সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন এবং দাম কম না রাখায় দেখে নেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি দেন। পরবর্তীতে তার ফেসবুক প্রচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে।
মৃত মুরগির ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত গরম বা বৈরী আবহাওয়ার কারণে কখনো কখনো দু-একটি মুরগি মারা গেলে তা বিক্রিযোগ্য মুরগি থেকে আলাদা করে রাখা হয়। গৃহপালিত কুকুরের খাদ্য বা চিড়িয়াখানার পশুর খাবারের জন্য কর্মচারীরা এগুলো স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে, যা মূল প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার অংশ নয়।’
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী মাসুমুর রশিদ সঠিক তথ্য যাচাই না করে মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানো থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
শাহিন মিয়া/ ডিডি
মন্তব্য করুন: