হাওর ও নদীর অস্তিত্ব রক্ষায় সুনামগঞ্জে বৃক্ষরোপণ অভিযান

হাওর ও নদীর অস্তিত্ব রক্ষায় সুনামগঞ্জে বৃক্ষরোপণ অভিযান

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২০/০৮/২০২৬ ১৭:২৫:১৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

"সবুজ বাঁচলে আমরা বাঁচি, সবুজে বাঁচুক আগামি প্রজন্ম" এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং হাওরাঞ্চলের বিপন্ন জীববৈচিত্র্য ও ভঙ্গুর বাস্তুসংস্থান সংরক্ষণের লক্ষ্যে সুনামগঞ্জে দিনব্যাপী এক পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন, সুনামগঞ্জ’ এর আয়োজনে ২০ (আগষ্ট) বৃহস্পতিবার বেলা ১০ টায় জেলাজুড়ে একযোগে ২৬০০টি বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ এবং বিতরণ করা হয়।

​সংগঠনটির জেলা কমিটি ১২টি উপজেলা এবং ২৬টি ইউনিয়ন কমিটির সমন্বিত উদ্যোগে সুনামগঞ্জ সদরসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চারা বিতরণ করা হয়।

​কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি মো. রাজু আহমেদ বলেন, আমাদের হাওর ও নদ-নদীর অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি সার্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। ভৌগোলিক কারণে সুনামগঞ্জের স্থানীয় পরিবেশ যে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতেই আমাদের এই সামাজিক পদক্ষেপ।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মহিবুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম আজাদ মিয়া, সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা রহমান এবং শহর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিভা বড়াল।

​এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সহ-সভাপতি মো. মুজাহিদুল ইসলাম মজনু ও ওবায়দুল মুন্সী, সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন, বাঁধবিষয়ক সম্পাদক শাহাজাহান সিদ্দিক ও মহসিন আলম, পৌর কমিটির আহ্বায়ক আকিফুজ্জামান রিপন এবং জেলা কমিটির সদস্য কর্ণবাবু দাস, গিলেমান আলম ও নুরজাহান নুরীসহ স্থায়ীয় স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ।

সাধারণত সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হলেও পরবর্তী পরিচর্যার অভাবে অনেক চারা নষ্ট হয়ে যায়। এ বিষয়ে সচেতনতা নিশ্চিত করতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ।

​সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন জানান, রোপণকৃত ও বিতরিত ২৬০০ গাছের শতভাগ সুরক্ষা ও নিয়মিত তদারকির জন্য স্থানীয় তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে বিশেষ 'তদারকি টিম' গঠন করা হয়েছে। চারাগুলো বড় হওয়া পর্যন্ত এই দল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করবে।

​আয়োজকরা স্পষ্ট করেছেন, হাওর ও নদ-নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং স্থানীয় পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যতে তাদের এই গণসচেতনতামূলক ও সামাজিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

প্রীতম দাস/ ডিডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad