হাওর ও নদীর অস্তিত্ব রক্ষায় সুনামগঞ্জে বৃক্ষরোপণ অভিযান
"সবুজ বাঁচলে আমরা বাঁচি, সবুজে বাঁচুক আগামি প্রজন্ম" এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং হাওরাঞ্চলের বিপন্ন জীববৈচিত্র্য ও ভঙ্গুর বাস্তুসংস্থান সংরক্ষণের লক্ষ্যে সুনামগঞ্জে দিনব্যাপী এক পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন, সুনামগঞ্জ’ এর আয়োজনে ২০ (আগষ্ট) বৃহস্পতিবার বেলা ১০ টায় জেলাজুড়ে একযোগে ২৬০০টি বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ এবং বিতরণ করা হয়।
সংগঠনটির জেলা কমিটি ১২টি উপজেলা এবং ২৬টি ইউনিয়ন কমিটির সমন্বিত উদ্যোগে সুনামগঞ্জ সদরসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চারা বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি মো. রাজু আহমেদ বলেন, আমাদের হাওর ও নদ-নদীর অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি সার্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। ভৌগোলিক কারণে সুনামগঞ্জের স্থানীয় পরিবেশ যে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতেই আমাদের এই সামাজিক পদক্ষেপ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মহিবুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম আজাদ মিয়া, সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা রহমান এবং শহর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিভা বড়াল।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সহ-সভাপতি মো. মুজাহিদুল ইসলাম মজনু ও ওবায়দুল মুন্সী, সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন, বাঁধবিষয়ক সম্পাদক শাহাজাহান সিদ্দিক ও মহসিন আলম, পৌর কমিটির আহ্বায়ক আকিফুজ্জামান রিপন এবং জেলা কমিটির সদস্য কর্ণবাবু দাস, গিলেমান আলম ও নুরজাহান নুরীসহ স্থায়ীয় স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ।
সাধারণত সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হলেও পরবর্তী পরিচর্যার অভাবে অনেক চারা নষ্ট হয়ে যায়। এ বিষয়ে সচেতনতা নিশ্চিত করতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন জানান, রোপণকৃত ও বিতরিত ২৬০০ গাছের শতভাগ সুরক্ষা ও নিয়মিত তদারকির জন্য স্থানীয় তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে বিশেষ 'তদারকি টিম' গঠন করা হয়েছে। চারাগুলো বড় হওয়া পর্যন্ত এই দল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করবে।
আয়োজকরা স্পষ্ট করেছেন, হাওর ও নদ-নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং স্থানীয় পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যতে তাদের এই গণসচেতনতামূলক ও সামাজিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
প্রীতম দাস/ ডিডি
মন্তব্য করুন: