সোয়াইন ফ্লতে আক্রান্ত শাবানা আজমি রোগটির লক্ষণ কী
প্রখ্যাত অভিনেত্রী শাবানা আজমির সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ার খবরটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শারীরিকভাবে যত দৃঢ় ও আদর্শের প্রতি যত অবিচলই থাকি না কেন, অসুস্থতা যেকোনো সময় এসে হানা দিতে পারে। জনস্বার্থের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে এই প্রবীণ অভিনেত্রী এখন চিকিৎসকের কঠোর বিশ্রামে রয়েছেন।
সোয়াইন ফ্লু হলো ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের একটি বিশেষ স্ট্রেইন বা ধরন, যার বৈজ্ঞানিক নাম এইচওয়ানএনওয়ান এটি মূলত ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের একটি প্রজাতি।
অতীতে এই ভাইরাসটি প্রধানত শূকরের মধ্যে পাওয়া গেলেও বর্তমানে এটি মানবদেহ থেকে মানবদেহে খুব সহজেই ছড়াতে পারে।
সাধারণ মৌসুমী ফ্লুর মতোই এটি শ্বাসতন্ত্রে আক্রমণ করে, তবে এর তীব্রতা ও হঠাৎ করে জ্বর বা শারীরিক দুর্বলতা তৈরি করার ক্ষমতা অনেক বেশি থাকে।
যেহেতু এটি একটি সংক্রামক বায়ুিবাহিত রোগ, তাই যেকোনো বয়সের মানুষই এতে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে কিছু নির্দিষ্ট মানুষের ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি এবং জটিলতা অনেক বেশি থাকে
প্রবীণ ব্যক্তি ও শিশুরা: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় শিশু এবং বয়স্করা এই ভাইরাসে দ্রুত আক্রান্ত হন।
গর্ভবতী নারীরা: গর্ভাবস্থায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে ফ্লুর ঝুঁকি বাড়ে।
দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্তরা: যাদের ডায়াবেটিস, হাঁপানি কিডনি বা হৃদ্রোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা রয়েছে।
দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: ক্যানসার বা অন্য কোনো কারণে যাদের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল।
সোয়াইন ফ্লুর লক্ষণগুলো সাধারণ সর্দি কাশির চেয়ে কিছুটা তীব্র হয়। এর প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
হঠাৎ করে ১০১ ডিগ্রি থেকে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি উচ্চমাত্রায় জ্বর আসা।
তীব্র মাথা ব্যথা এবং সারা শরীরে বা পেশিতে ব্যথা।
শুকনা কাশি এবং গলা ব্যথা।
অত্যাধিক ক্লান্তি বা শারীরিক দুর্বলতা।
কারও কারও ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব বা ডায়রিয়াও হতে পারে।
বিশ্রাম ও তরল খাবার: শাবানা আজমিকে যেমন চিকিৎসকরা সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলেছেন, তেমনি এই রোগ থেকে সেরে ওঠার প্রধান শর্ত হলো পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখা।
চিকিৎসকের পরামর্শ: লক্ষণ দেখা দেওয়ার প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ যেমন ওসেলটামিভির বা ট্যামিফ্লু শুরু করলে রোগ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে।
সচেতনতা: হাঁচি কাশি দেওয়ার সময় মুখ ঢাকা, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকা সোয়াইন ফ্লু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: