মৌলভীবাজারে কাউয়াদীঘির জলাবদ্ধতায় আমনের স্বপ্ন ভঙ্গ

মৌলভীবাজারে কাউয়াদীঘির জলাবদ্ধতায় আমনের স্বপ্ন ভঙ্গ

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

২০/০৮/২০২৬ ১২:৪৭:৩২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

কাউয়াদীঘি হাওরের জলাবদ্ধতায় মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার প্রায় তিন হাজার হেক্টর রোপা আমন জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কায় হাজার হাজার কৃষক পরিবারে হাহাকার দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনু প্রকল্পের আওতাধীন রাজনগরের মুন্সিবাজার, উত্তরভাগ, পাঁচগাঁও, সদর উপজেলার আখাইলকুঁড়া ও একাটুনা ইউনিয়নের ৩৫-৪০টি গ্রামের জমিতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে আছে। কৃষকদের অভিযোগ, বোরো মৌসুম থেকেই কাশিমপুর পাম্প হাউজের পাম্পগুলো সেচ কাজে গড়িমসি করায় হাওরে অতিরিক্ত পানি জমে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

আমনের সময় পেরিয়ে গেলেও জমি পানির নিচে থাকায় বীজতলায় চারার বয়স বেড়ে নষ্ট হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকে সেই চারা গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন। রাজনগরের দুগাঁও গ্রামের কৃষক জহির উদ্দিন জানান, শতাধিক বিঘা জমির মধ্যে মাত্র দুই-আড়াই বিঘায় চারা লাগানো সম্ভব হয়েছে। বর্গাচাষি ও ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়া কৃষকরা জানান, বোরো ফসল বানের পানিতে হারানোর পর আমন নিয়েও তারা অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

অনেকের অভিযোগ, হাওরের ৫০টিরও বেশি বিলের ইজারাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে পাম্প সঠিকভাবে চালু না রাখায় মাছের সুবিধা হলেও কৃষকের সর্বনাশ হয়েছে।

কৃষি ও কৃষক বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক হুমায়ূন রশীদ সোয়েব জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেড় ফুট পানি কমানো গেলে অন্তত দুই থেকে আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা সম্ভব।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গত ৮-৯ দিন আড়াই মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দের মাধ্যমে ছয়টি পাম্প নিরবচ্ছিন্নভাবে চালানো হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর পানি হাওরের লেভেলের নিচে নামলেই রেগুলেটরের ১১টি গেট খুলে দেওয়া হবে, যা দ্রুত পানি কমাতে সাহায্য করবে।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়া এসব জমিতে প্রায় ১২ হাজার টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখে।

রত্না বাউরী

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad